বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬, ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩

চিপ বিক্রিতে ১২ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা হুয়াওয়ের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চিপ বিক্রিতে বিশাল প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

করছে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সাল নাগাদ হুয়াওয়ের এআই

চিপ বিক্রয়লব্ধ আয় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ

পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরেই তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ জমা পড়েছে, যার

ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে চিপ খাত থেকে মোট আয় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা

হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার।

হুয়াওয়ের এই অভাবনীয় অগ্রগতির মূল কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তাদের শক্তিশালী

‘অ্যাসেন্ড ৯৫০পিআর’ প্রসেসরকে। গত মার্চ মাসে উৎপাদন শুরুর পর থেকেই বাজারে এই

চিপের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আগামী ২০২৬ সালের শেষ

প্রান্তিকে ‘৯৫০ডিটি’ নামক চিপের আরও একটি উন্নত সংস্করণ বাজারে আনার পরিকল্পনা

করছে।

হুয়াওয়ের এই জয়যাত্রার বিপরীতে মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া চীনের

বাজারে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট শর্তে

জিপিইউ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু নীতিগত জটিলতার কারণে তা সফল হচ্ছে না।

মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত চীনে কোনো

‘এইচ২০০’ চিপ বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সরকার রপ্তানির ক্ষেত্রে

শর্তারোপ করেছে যে, পণ্য পাঠানোর আগে তৃতীয় পক্ষের ল্যাবে কারিগরি পরীক্ষা করতে হবে

এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কেবল অতিরিক্ত চিপই রপ্তানি করা যাবে।

অন্যদিকে চীন সরকারও তাদের দেশীয় কোম্পানিগুলোকে মার্কিন চিপের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে

স্থানীয় প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকার নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতির চাপে এনভিডিয়া চীনের

জন্য নির্ধারিত এইচ২০০ জিপিইউ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে এখন নতুন প্রযুক্তির ‘ভেরা

রুবিন’ চিপ তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে। ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ এআই বাজারে হুয়াওয়ের জন্য

একক আধিপত্য বিস্তারের এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন