সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ঘরের মাঠে বুধবার এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাঞ্জাব কিংসকে ৩৩
রানে হারিয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। আগে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ ৪ উইকেটে ২৩৫
রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে কুপার কনলির রেকর্ডগড়া শতক সত্ত্বেও ২০২
রানেই থামতে হয় পাঞ্জাবকে। এই জয়ের মাধ্যমে হায়দরাবাদ একটি বিশেষ রেকর্ড নিজেদের
করে নিয়েছে; নিজেদের মাঠে পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলা ১১টি ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয়
পেল তারা। এ ছাড়া ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঘরের মাঠে পাঞ্জাবকে টানা ৯ ম্যাচে
হারানোর অনন্য নজির স্থাপন করল অরেঞ্জ আর্মি।
ম্যাচের শুরুতে হায়দরাবাদের দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা যথারীতি ঝোড়ো
সূচনা করেন। মাত্র ৩.২ ওভারেই দলের স্কোর ৫০ ছাড়িয়ে যায়। অভিষেক ১৩ বলে ৩৫ এবং হেড
১৯ বলে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফিরলেও মাঝপথে রানের গতি সচল রাখেন ইশান কিষাণ ও হেইনরিখ
ক্লাসেন। তাঁদের ৮৮ রানের কার্যকর জুটিতে হায়দরাবাদ বড় সংগ্রহের ভিত পায়। ইশান ৩২
বলে ৫৫ এবং ক্লাসেন ৪৩ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৯ রান করেন। শেষ দিকে নীতিশ কুমার
রেড্ডির ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৩৫ রানের বিশাল পুঁজি
পায় স্বাগতিকরা।
২৩৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাঞ্জাব কিংস।
দলীয় মাত্র ৪ রানেই দুই ওপেনার প্রভসিমরান সিং ও প্রিয়াংশ আর্যকে হারিয়ে কোণঠাসা
হয়ে পড়ে তারা। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও মাত্র ৫ রান করে বিদায় নেন। তবে বিপর্যয়ের
মাঝে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন অজি তরুণ কুপার কনলি। মাত্র ২২ বছর ২৫৭ দিন বয়সে
সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আইপিএল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ড গড়েন
তিনি। এর আগে ২০১৬ সালে ২৩ বছর ১২২ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন
কুইন্টন ডি কক। কনলি শেষ পর্যন্ত ৫৯ বলে ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১০৭ রানে অপরাজিত
থাকলেও দলের জয় নিশ্চিত করতে পারেননি।
পাঞ্জাব কিংস চলতি মৌসুমে এর আগে ২৬৬ রান তাড়া করে জেতার বিশ্বরেকর্ড গড়লেও কালকের
ম্যাচে তারা তাল হারিয়ে ফেলে। ১১৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর কনলি একাই লড়াই চালিয়ে
যান। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসটি ছিল ২২ বছর বয়সী কোনো ক্রিকেটারের জন্য পাঞ্জাবের
জার্সিতে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। হায়দরাবাদের পক্ষে প্যাট কামিন্স ও
শিভাঙ কুমার ২টি করে উইকেট শিকার করেন। উল্লেখ্য যে, আইপিএলের ইতিহাসে হায়দরাবাদ
এখন পর্যন্ত ২২০ রানের বেশি পুঁজি নিয়ে মোট ১১ বার খেলতে নেমে প্রতিটিতেই জয় পাওয়ার
ধারা অব্যাহত রেখেছে।
এই পরাজয়ের ফলে পাঞ্জাব কিংসের জন্য প্লে-অফের সমীকরণ কিছুটা জটিল হলেও কুপার কনলির
এই পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর দুর্দান্ত ব্যাটিং
নৈপুণ্য সত্ত্বেও যোগ্য সঙ্গীর অভাবে পাঞ্জাব ২০২ রানে সীমাবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে,
হায়দরাবাদ তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত
করল। এক ভেন্যুতে কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশিবার হারানোর তালিকায়
হায়দরাবাদ এখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ঠিক পরেই অবস্থান করছে। কনলির এই সেঞ্চুরিটি
তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্য একটি বিশাল অর্জন হলেও দলের হারের কারণে শেষ
পর্যন্ত তা ম্লান হয়েই থাকল।





