রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩

ন্যাটোর সমালোচনা করলেন পুতিন

মস্কোর রেড স্কয়ারে আয়োজিত বিজয় দিবস প্যারেডে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধের

যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা

সামরিক জোট ন্যাটোর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের

৮১তম বার্ষিকী স্মরণে এই প্যারেডের আয়োজন করা হয়। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবার

নিরাপত্তার কারণে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও কঠোর গোপনীয়তায় এই বার্ষিক প্যারেড

অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের

মধ্যে এই প্রথম মস্কোর বিজয় দিবসের প্যারেডে কোনো সাঁজোয়া যান, ভারী ট্যাংক কিংবা

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি। রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো

হয়েছে, ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার আশঙ্কায় আয়োজন সীমিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া সম্মুখ সমরে রুশ সেনাদের ব্যস্ত থাকাকে ভারী অস্ত্র প্রদর্শন না করার কারণ

হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ দিন মস্কোজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কও সাময়িকভাবে

বন্ধ রাখা হয়েছিল। রুশ এমপি ইয়েভজেনি পপভ বলেন, ‘আমাদের ট্যাংকগুলো এখন

যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত। রেড স্কয়ারের চেয়ে সেগুলোর প্রয়োজন ফ্রন্টলাইনে বেশি।’

শত শত সেনাসদস্য ও অল্প কয়েকজন বিশ্বনেতার উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে পুতিন দাবি করেন,

রাশিয়া ইউক্রেনে একটি ‘ন্যায়সংগত’ যুদ্ধ লড়ছে। ইউক্রেনকে একটি আগ্রাসী শক্তি হিসেবে

অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনকে ন্যাটোর পুরো সামরিক জোট অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে মদদ

জোগাচ্ছে। তবে তারা যতই রণকৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ এ দেশের

মানুষই নির্ধারণ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিজয়ীদের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের বর্তমান বীর সেনারা আজ বিশেষ

সামরিক অভিযানে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাচ্ছেন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বেলারুশের নেতা আলেক্সান্ডার

লুকাশেঙ্কো, মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম, উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত

মিরজিওয়েভ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র প্রতিনিধি রবার্ট ফুকো।

তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিদেশি নেতাদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। গত বছরের আয়োজনে

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ

২৭ জন নেতা অংশ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, এই প্যারেডকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে

রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের (৯ থেকে ১১ মে) একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

এ ছাড়া এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে ১ হাজার করে মোট ২ হাজার বন্দি বিনিময় হবে।

কিন্তু প্যারেড শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে,

ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য মস্কোর পক্ষ থেকে

দেওয়া হয়নি। ইউক্রেনও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

পোস্টটি শেয়ার করুন