রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

লিটনের লড়াকু ১২৬ রানে ২৭৮-এ থামল টাইগাররা, প্রথম দিন শেষে এগিয়ে পাকিস্তান

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয়

টেস্টের প্রথম দিনটি ছিল ব্যক্তিগত বীরত্ব ও দলীয় বিপর্যয়ের এক মিশ্র চিত্র। টসে

জিতে শুরুতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় চরম বিপাকে পড়ে

স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে লড়াকু এক সেঞ্চুরি উপহার

দিয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। তাঁর দুর্দান্ত ১২৬ রানের ওপর ভর করেই

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রানের একটি মোটামুটি সংগ্রহ দাঁড়

করাতে সক্ষম হয়। দিনের শেষ ভাগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান বিনা উইকেটে ২১ রান

সংগ্রহ করেছে, ফলে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে তারা এখন ২৫৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানি পেসারদের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয় রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরলে বড়

ধাক্কা খায় দল। দ্বিতীয় উইকেটে অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ২৬ রানের একটি

আশাজাগানিয়া ইনিংস খেললেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে

থাকে টাইগাররা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান এবং অভিজ্ঞ মুমিনুল হক ও

মুশফিকুর রহিম যথাক্রমে ২৩ রান করে আউট হলে এক পর্যায়ে মাত্র ১১৬ রানেই ৬ উইকেট

হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বোলার খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসের

নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টাইগারদের অভিজ্ঞ ব্যাটিং ইউনিট রীতিমতো অসহায় হয়ে

পড়েছিল।

দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুহূর্তে একাই লড়াই চালিয়ে যান লিটন দাস। তিনি অত্যন্ত

ধৈর্য ও দক্ষতার সাথে ইনিংস মেরামত করেন এবং লেজ-কাটা ব্যাটারদের নিয়ে স্কোরবোর্ড

সচল রাখেন। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সাথে তাঁর জুটিটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,

যেখানে তাইজুল মাত্র ১৬ রান করলেও লিটনকে উইকেটে থিতু হতে সহায়তা করেছেন। লিটন

মাত্র ১৩৫ বলে তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১২৬

রানে তিনি বিদায় নিলে বাংলাদেশের ইনিংস ২৭৮ রানে থেমে যায়। তাঁর এই শতকটি কেবল

ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি মানসম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার মূল

কারিগর হিসেবে কাজ করেছে।

দিনের শেষ বিকেলে ব্যাটিং করতে নামা পাকিস্তানের জন্য সময়টি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার।

মাত্র ৬ ওভার খেলার সুযোগ পেলেও সফরকারী দুই ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল ও এয়াইস আজান

কোনো বিপদ ছাড়াই দিন পার করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ চারজন ভিন্ন বোলারকে ব্যবহার করে

পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। উইকেটশূন্য অবস্থায়

পাকিস্তান দিন শেষ করায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে আপাতত সফরকারীরাই কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

মিরপুর টেস্টে দাপুটে জয়ের পর সিলেটেও পাকিস্তান তাদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে

পেরেছে, তবে লিটনের দৃঢ়তা বাংলাদেশের বোলারদের জন্য কিছু পুঁজি এনে দিয়েছে।

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ বড়

সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়া করলেও লিটনের কল্যাণে ম্যাচে টিকে আছে। দ্বিতীয় দিনে

বাংলাদেশ দলের প্রধান লক্ষ্য থাকবে দ্রুত পাকিস্তানের উইকেট তুলে নিয়ে বড় লিড

নেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে তাদের শক্তিশালী

ব্যাটিং লাইনআপ দিয়ে বাংলাদেশের করা ২৭৮ রান টপকে একটি বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করানো।

প্রথম দিন শেষে ম্যাচটি বেশ রোমাঞ্চকর মোড় নিয়েছে, যেখানে বোলার ও ব্যাটারদের সমানে

সমান লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামীকালকের প্রথম সেশনটি উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত

গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন