মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

গোপালপুরে সড়কের ইট উধাও, অভিযোগের তীর ইউপি সদস্যের দিকে

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের ইটের

রাস্তা নির্মাণের এক বছর না পেরোতেই সেই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ইউপি সদস্য সরকারি সড়কের ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম

নির্মাণ করেছেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম আয়েশা বেগম। তিনি ওই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩

নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি

(কাবিটা) মোতাবেক (উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (১ম ও ২য় পর্যায়) পশ্চিম

নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বিশ

হাজার টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার গ্রামীণ সড়ক বা হালটে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।

গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পাশেই প্যারাজানি বিল। সেখানে সহস্রাধিক

একরে বোরো ও রোপা আবাদ হয়। বিলে হালচাষ এবং সেখান থেকে ফসল ঘরে আনার জন্য সড়কটি

একমাত্র অবলম্বন। এলাকাবাসির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন গ্রামীণ সড়কটি

মেরামত ও ইটের সলিং করে।

প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই। আর কাজের ঠিকাদারি পান তার

স্বামী তোফাজ্জ্বল হোসেন। কিন্তু দুই মাস আগে ইউপি সদস্য ও তার স্বামী দুজনে মিলে

দিন দুপুরে রাস্তার সকল ইট তুলে রিকশা-ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা ইট

তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হবে। পরে

সেই ইট দিয়ে তারা বাড়িতে পাকা বাথরুম বানায়। এদিকে ইট তুলে নেয়ায় চলতি বর্ষায়

রাস্তার মাটি ধসে পড়ছে। ফলে মাঠ থেকে কৃষকরা বোরো ধান বাড়ি নিয়ে আসতে দুর্ভোগ

পোহাচ্ছেন।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায়

ইচ্ছামতো ইটের রাস্তা বানাইছে। আবার তারাই দিন দুপরে রাস্তার ইট তুইলা নিয়া বাড়িতে

গোছলখানা আর পাকা পায়খানা দিছে। এরা প্রভাবশালী। কিছু কইতে গেলেই মাইরতে আসে। তাই

সবাই চুপচাপ হইয়া আছে।’ গত রোববার ওই ইউপি সদস্যের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার

কাজের সাইনবোর্ডটি বাথরুমের পাশে পড়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যের স্বামী এবং ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ওই

অর্থবছরে ওই ইউনিয়নের ৪টি গ্রামীণ সড়ক সলিং করার কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার

ইট থেকে যায়। সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়া বাড়তি সরকারি

ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না প্রশ্নে জানান, উপজেলা প্রশাসন তো কখনও ইট

ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কী সমস্যা?

ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম জানান, গ্রামের কিছু দুষ্টু লোক রাতের আধাঁরে রাস্তার ইট

চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম বানানোর প্রশ্নই আসে না। ইট চুরির

ঘটনা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি প্রশ্নে জানান, রাস্তাটি পুনঃসংস্কার করার জন্য

নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। গোপালপুর

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্যকে মাত্র

তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিজের টাকায় ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী

না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন