বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী স্মোতরিচের বিরুদ্ধে আইসিসি’র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের

বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচের বিরুদ্ধে একটি গোপন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জারি করেছে। মঙ্গলবার জেরুজালেমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্মোতরিচ নিজেই এই

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদালতের প্রধান

প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে গত সোমবার রাতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ইসরায়েলের

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদন

অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিধিমালা উপেক্ষা করে অবৈধ

ইহুদি বসতি স্থাপন এবং আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে এই আইনি

ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্মোতরিচ ছাড়াও এই একই অভিযোগে ইসরায়েলের জাতীয়

নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) আরও

তিনজন পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে

আইডিএফ-এর ওই কর্মকর্তাদের নাম ও পরিচয় এবং পরোয়ানা জারির সুনির্দিষ্ট তারিখ এখন

পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিক্রিয়ায় বেজালেল স্মোতরিচ আইসিসি-কে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’

হিসেবে অভিহিত করে কড়া সমালোচনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এই

পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ

ঘোষণা করেছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, আইসিসি চায় ইসরায়েল নিরাপত্তার দিক থেকে

‘আত্মহত্যা’ করুক। পক্ষপাতদুষ্ট কোনো সংস্থার ‘ভণ্ডামিপূর্ণ’ নির্দেশনা ইসরায়েল

সরকার গ্রহণ করবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন। তাঁর মতে, ইউরোপের অনেক দেশ এখনও

ইসরায়েল ও ইহুদি প্রশ্নে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করে আসছে।

পশ্চিম তীরের দখলদারিত্বের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে স্মোতরিচ ধর্মীয় প্রেক্ষাপট

টেনে আনেন। তিনি বলেন, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ তৌরাত এবং বাইবেলে উল্লেখ আছে যে বর্তমান

পশ্চিম তীর তথা জুদেয়া ও সামারিয়া হলো ইহুদিদের আদি মাতৃভূমি। ইসরায়েল সরকার

কেবল সেই ভূমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে এবং এটি কোনো অপরাধ হতে পারে না। মূলত এই

আদর্শিক অবস্থান থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কড়া সমালোচনা সত্ত্বেও বসতি

সম্প্রসারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নিজের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আইসিসি’র এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েলের প্রভাবশালী এই রাজনীতিবিদদের বিদেশ

ভ্রমণে বড় ধরণের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেহেতু আইসিসি’র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর

পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই এই ঘটনাটি

ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম

তীরের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আদালতের এই আইনি লড়াই আগামী দিনে

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক নতুন ও জটিল মাত্রা যোগ করতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন