২০১৩ সালে পর্দা কাঁপানো মালয়ালম থ্রিলার ‘দৃশ্যম’ দিয়ে শুরু হওয়া জর্জকুট্টির
অদম্য লড়াই এখন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিচালক জিতু জোসেফের হাত ধরে এই
ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি ‘দৃশ্যম ৩’ গত বৃহস্পতিবার অভিনেতা মোহনলালের ৬৬তম
জন্মদিনে মুক্তি পেয়েই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৩ কোটি
৩৭ লাখ রুপির ব্যবসা করে সিনেমাটি মালয়ালম চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে। মজার বিষয় হলো, তালিকার শীর্ষস্থানটিও মোহনলালেরই ‘এল২:
এমপুরান’ সিনেমার দখলে, যার ফলে বর্তমান মালয়ালম সিনেমার দুই বৃহৎ মাইলফলকই এখন এই
কিংবদন্তি অভিনেতার মুঠোয়।
‘দৃশ্যম ৩’-এর এই আকাশছোঁয়া সাফল্য মূলত দীর্ঘ এক দশকের জনপ্রিয়তার ফসল। ২০১৩ সালে
মুক্তি পাওয়া প্রথম কিস্তিটি কেবল ভারতেই নয়, বরং চীন ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে
স্থানীয় ভাষায় রিমেক হয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। এরপর করোনাকালে ওটিটি
প্ল্যাটফর্মে আসা দ্বিতীয় কিস্তিটিও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়। সেই
ধারাবাহিকতায় তৃতীয় কিস্তিতে প্রিয় জর্জকুট্টি পরিবারকে বড় পর্দায় ফিরে দেখা
দর্শকদের জন্য ছিল অন্যতম বড় আকর্ষণ। রানি জর্জ চরিত্রে মীনা এবং দুই মেয়ে অঞ্জু ও
অনু চরিত্রে আনসিবা হাসান ও এস্থার অনিল আগের মতোই তাঁদের সাবলীল অভিনয়ে দর্শকদের
মুগ্ধ করেছেন।
জন্মদিনের বিশেষ উপহার হিসেবে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি ঘিরে কেরলমের
প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঝরাত থেকেই শো, কেক কাটা ও আতশবাজির
মাধ্যমে ভক্তরা তাঁদের প্রিয় তারকাকে বরণ করে নেন। স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী,
ছবিটি ভারতের বাজার থেকে ১৮ কোটি ৩৭ লাখ এবং বিদেশের বাজার থেকে প্রায় ২৫ কোটি রুপি
সংগ্রহ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোতে মালয়ালম
সিনেমার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ছবিটি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য কিছুটা মিশ্র। কিছু সমালোচক মনে করছেন যে
আগের দুই কিস্তির তুলনায় রহস্যের মোড় এবার কিছুটা দুর্বল, তবে মোহনলালের অসাধারণ
অভিনয়ই সিনেমাটিকে সচল রেখেছে। জর্জকুট্টির সেই চিরচেনা নীরব আতঙ্ক ও পরিবারের
প্রতি গভীর মমতা দর্শকদের মাঝে আগের মতোই টানটান উত্তেজনা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বুদ্ধি দিয়ে প্রতিকূলতা জয়ের এই গল্প আবারও প্রমাণ
করল যে জর্জকুট্টি চরিত্রটি এখন ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে
উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনগুলোতে এই অগ্রযাত্রা কতদূর বজায় থাকে।





