রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার
ঘটনায় দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ
ধরনের জঘন্য অপরাধের পেছনে কেবল ব্যক্তিগত অপরাধপ্রবণতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক
ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী। মাদকাসক্তির বিস্তার, ইন্টারনেটে বিকৃত আধেয় বা
কনটেন্টের সহজলভ্যতা, পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি এবং
বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এই পৈশাচিক
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের শীর্ষ তারকারাও
বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের মেগাস্টার শাকিব খান এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘একটি শিশুর আর্তনাদ কখনোই শুধু একটি পরিবারের
বেদনা হয়ে থাকে না, এই বেদনা আমাদের সবার! শিশু রামিসার সাথে হওয়া এই নৃশংস ঘটনা
পুরো সমাজের মানবিকতা, নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়!
প্রয়োজন দ্রুত স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; যে শাস্তি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য
অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করবে এবং সমাজে স্পষ্ট বার্তা দেবে।’ বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার
সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার বিলম্ব মানে
ভুক্তভোগী পরিবারের যন্ত্রণা আরও দীর্ঘ করা। তাই এখন সময় আইনের কঠোর প্রয়োগ, যাতে
আর কোনো রামিসাকে এভাবে নির্মমতার শিকার হতে না হয়; যেন আর কোনো সন্তানের পিতাকে
বলতে না হয়, “আমরা বিচার চাই না, এদেশে বিচার নাই!”’
একই ধরণের আবেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। একজন মা হিসেবে
নিজের বুক ফেটে যাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন,
‘রামিসার মর্মান্তিক বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। একজন মা হিসেবে আমার বুক
ফেটে যাচ্ছে। এমন নৃশংসতার বিচার চাই আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।
রামিসা তুই শান্তিতে থাক মা।’ অন্যদিকে, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল মনে
করেন, কেবল কঠোর শাস্তি দিয়ে এই অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন নারী
ধর্ষণ, তারপর হত্যা। শুধু কঠিন শাস্তি দিলেই হবে না, আমাদের সেই অসুস্থ মাইন্ডসেটও
(মানসিকতা) বদলাতে হবে যেখান থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা জন্ম নেয়।’ পিয়া আরও যোগ
করেন যে, পরিবার থেকেই ছেলেদের শেখানো উচিত কীভাবে নারীকে সম্মান করতে হয় এবং
শিশুদের ওপর ‘ভায়োলেন্ট পর্নোগ্রাফি, টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি ও ড্রাগ অ্যাবিউজ’-এর
প্রভাব রোধ করা জরুরি।
অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা এই ঘটনায় গভীর অসহায়ত্ব প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আর
কোনো কথাতো বেরোয় না আমার। কী বলবো? কী বললে, কী করলে নিরাপদে থাকবে আমাদের শিশুরা?
কেন মানুষ রূপে জন্ম নিয়েও সকলে হিংস্র প্রাণী হয়ে যাচ্ছে? সভ্য সমাজ বলতে কি আর
কিছু আছে? কোথায় এর শেষ হবে? শেষ কি আছে এর কোনো? কোথায় যাবো? কি করবো? এতো অসহায়
লাগে… এতো অসহায় লাগে….’ তাঁর এই আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন
তৈরি করেছে। উল্লেখ্য যে, পল্লবীতে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধারের পর প্রধান অভিযুক্ত
সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পুলিশি তদন্ত চলছে। দেশের সংস্কৃতি
ও বিনোদন অঙ্গনের প্রতিনিধিরা একযোগে এই বর্বরোচিত ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার
নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।





