, ,

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বগুড়ার তিনটি উপজেলায় আগাম ঈদ উদযাপন

বগুড়ার তিনটি উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা

উদযাপিত হয়েছে। জেলার গাবতলী, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কিছু এলাকার বাসিন্দারা দেশের

প্রচলিত সময়ের এক দিন আগেই এই ঈদ উৎসবে মেতে ওঠেন। সকাল সাড়ে ৭টায় গাবতলী রেলস্টেশন

সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে প্রধান জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত

সময়ের কিছুটা পরে এবং মসজিদের ভেতরে নামাজ সম্পন্ন করা হলেও মুসল্লিদের মধ্যে

উৎসাহের কমতি ছিল না। গাবতলীতে এটি চতুর্থবারের মতো আগাম ঈদ উদযাপনের ঘটনা।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির ফলে এবারের জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি অন্যবারের

তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মুসল্লি এই নামাজে অংশগ্রহণ

করেন। শুধু গাবতলী নয়, পাশের কাহালু ও ধুনট উপজেলা থেকেও অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ এই

বিশেষ জামাতে অংশ নিতে আসেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের

শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ

পুরো এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিল।

নামাজে ইমামতি করা স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান এই আগাম ঈদ উদযাপনের ধর্মীয় ও

বৈজ্ঞানিক যুক্তি তুলে ধরেন। পেশায় দর্জি ও দ্বীনি এলেম চর্চাকারী মিজানুর রহমান

উল্লেখ করেন, ২০১২ সাল থেকে তারা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিশ্বের একক চাঁদ দেখার

নীতির ওপর ভিত্তি করে এই নিয়ম মেনে আসছেন। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সৌদি

আরবে চাঁদ দেখার খবর দ্রুত পাওয়ার পরও তারিখের ভিন্নতা শবে কদর বা আরাফাতের সিয়ামের

মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তাই সৌদি আরবে আরাফাতের দিন অতিবাহিত

হওয়ার পরদিনই তারা ঈদুল আজহার সালাত আদায় ও কোরবানি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত

নিয়েছেন।

এই জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের স্বাধীনতায় প্রশাসনের

পক্ষ থেকে তারা যথেষ্ট সহযোগিতা ও নিরাপত্তা পাচ্ছেন। তবে তারা দেশের আলেম-ওলামাদের

প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন যেন এই বিষয় নিয়ে কোনো সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি না হয়।

তারা মনে করেন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলেমদের একত্রে বসে একটি যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক

সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত যাতে তারিখের এই পার্থক্য ও বিভ্রান্তি স্থায়ীভাবে নিরসন

করা সম্ভব হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা

শুরু করেন।

গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, অত্যন্ত শান্ত ও

সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নামাজ

শেষে মুসল্লিরা স্বাভাবিকভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন। যদিও দেশের অধিকাংশ

মানুষ আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা পালন করবেন, তবে এই বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষজন

ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আজকেই তাদের উৎসব পালন সম্পন্ন করেছেন।

প্রশাসনিক নজরদারিতে পুরো এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় ছিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন