শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

টয়োটাকে টপকে জাপানের শীর্ষ কোম্পানি সফটব্যাংক

জাপানের করপোরেট ইতিহাসে দুই দশকের দীর্ঘ একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে

শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘সফটব্যাংক’। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময়

ধরে জাপানের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির অবস্থান ধরে রাখা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান

টয়োটাকে পেছনে ফেলে সফটব্যাংক এখন দেশটির এক নম্বর কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। মূলত

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির আকাশচুম্বী চাহিদা এবং এই খাতে

সফটব্যাংকের বিশাল বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটিকে এই অভাবনীয় সাফল্যে পৌঁছে দিয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জাপানের ব্যবসা খাতের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের

চিত্রটি ফুটে উঠেছে।

বাজার মূলধনের ভিত্তিতে এর আগে ২০০৩ সালে টেলিকম গ্রুপ এনটিটি ডোকোমোকে টপকে

শীর্ষস্থান দখল করেছিল টয়োটা। এরপর থেকে টানা দুই দশক তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে

রাখলেও বর্তমান বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এবং এআই নির্ভর অর্থনীতির জোয়ারে

টয়োটা তার শীর্ষস্থান হারাল। মাসায়োশি সনের নেতৃত্বাধীন সফটব্যাংক গ্রুপ

চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-তে বড় ধরনের বিনিয়োগ করার পাশাপাশি

নিজস্ব চিপ ডিজাইনার প্রতিষ্ঠান ‘আর্ম’ থেকে বিপুল আয়ের পূর্বাভাস পেয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের এই এআই-কেন্দ্রিক প্রবল আগ্রহই সফটব্যাংকের বাজার মূলধন বৃদ্ধিতে

প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।

সফটব্যাংকের এই উল্লম্ফন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে জাপানের পুঁজিবাজারেও। দেশটির প্রধান

শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ সাম্প্রতিক সময়ে ১ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসের প্রথমবারের মতো

সাময়িকভাবে ৬৭ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বছরের শুরু থেকে বর্তমান সময়

পর্যন্ত এই সূচকের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩০ শতাংশ। আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান নোমুরা

পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে এই সূচক ৬৮ হাজার পয়েন্ট স্পর্শ করতে

পারে এবং আগামী বছর নাগাদ তা ৭০ হাজারে গিয়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সফটব্যাংকের

এমন সাফল্য সামগ্রিকভাবে জাপানি শেয়ারবাজারকে নতুন প্রাণশক্তি যুগিয়েছে।

জাপানের ব্যবসা খাতের এই পরিবর্তনকে দেশটির করপোরেট সংস্কৃতির এক বড় মোড় হিসেবে

দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের করপোরেট জগত এখন আর কেবল

সুরক্ষিত ব্যালেন্সশিট বা ধীরে ধীরে উন্নতির সনাতন দর্শনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সাহসী

নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাই বর্তমান সময়ে

জয়ী হচ্ছে। সফটব্যাংকের এই জয়যাত্রা সেই আধুনিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। তবে এই

দ্রুত গতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা সতর্কবার্তাও দিয়েছেন বাজার কৌশলবিদরা। বিশেষ করে

এআই ও চিপ খাতের আয়ের এই ধারা ভবিষ্যতে কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এখন নিবিড়ভাবে

পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।

পোস্টটি শেয়ার করুন