কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে একটি গ্যাস স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন
নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। বিবিসির খবর এমনটি বলা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় জানায়, গত রোববার রাতে রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে একটি ‘প্রযুক্তিগত
দুর্ঘটনা’ ঘটে। এতে বিস্ফোরণের আলোতে শহরের আকাশ কমলা বর্ণ ধারণ করে।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি বলেন, বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রের
এই বিস্ফোরণ দেশের রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি
ছিল একটি দুর্ঘটনা এবং কোনো নাশকতা বা আক্রমণাত্মক কিছু নয়।
বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম বন্দর হিসেবে পরিচিত রাস লাফানেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম
এলএনজি রপ্তানি অবকাঠামো। চলতি বছরের শুরুর দিকে বন্দরটি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু
হয়েছিল।
রোববারের এই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা ৭০ কিলোমিটার দূরের দোহা থেকেও
অনুভূত হয় এবং এতে জানালার কাচ কাঁপতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক
ছড়িয়ে পড়ে।
শেরিদা আল-কাবি জানান, সরকার বারজান গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রের বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে
দেখছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এতে পরিবেশের কোনো বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা নেই।
তিনি বলেন, এই কেন্দ্রের কার্যক্রম পুনরায় কবে নাগাদ শুরু করা সম্ভব হবে তা এখনই
নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ওই
কেন্দ্রের প্ল্যান্টের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মাত্র দুই দিন আগে এটি
পুনরায় চালু করা হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। মন্ত্রী নিশ্চিত
করেন, বিস্ফোরণে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা সবাই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক।
দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা কাতারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে
সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং হতাহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানায়, রাস লাফান
ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা দুর্ভাগ্যবশত প্রাণ
হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।
কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি জানায়, বারজান স্থানীয় গ্যাস
সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি
উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কোম্পানিটি আরও জানায়, স্থাপনাটির প্রয়োজনীয় মেরামতের কারণে আগামী তিন থেকে পাঁচ
বছরের জন্য এলএনজি উৎপাদন ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন হ্রাস পেতে পারে।





