পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সামরিক সংঘাতে ভারতীয় বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যের নিহতের
তথ্য গোপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। প্রায় তেরো মাস আগে
সংঘটিত ওই লড়াইয়ে ভারতের ছয়জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে
প্রকাশের পর এই নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদিকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার
দিনব্যাপী চলা এক রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের সময় ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করা
হয়েছিল। ওই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং বিমানবাহিনীর একজনসহ মোট ছয়জন
সদস্য নিহত হন।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এতদিন এই তথ্য দেশের সংসদ ও জনগণের কাছে সম্পূর্ণ
গোপন করে রেখেছিল। বিরোধী দলটির মতে, নিহতদের নাম দীর্ঘ তেরো মাস পর প্রকাশ করে
সরকার কেবল দেশের সংসদকে বিভ্রান্ত করেনি, বরং জীবন উৎসর্গকারী বীর জওয়ানদের
প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি থেকেও বঞ্চিত করেছে।
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের প্রাক্তন সেনাবিষয়ক বিভাগের
চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার অনুমা
আচার্য সরকারের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।
অনুমা আচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পূর্ববর্তী সব সরকার দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া
প্রতিটা সেনাকে প্রকাশ্যে বীরের সম্মান জানিয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতার স্বার্থে
দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে
বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল রোহিত চৌধুরী ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সমালোচনা করে বলেন,
‘ভোটের রাজনীতিতে জওয়ানদের ব্যবহার করা হলেও তাদের জীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন করা
হচ্ছে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যখন সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো সেনা সদস্য
নিহত হননি বলে অসত্য বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সরকারি দলের এমপিরা হাততালি দিচ্ছিলেন।
এ ধরনের বক্তব্য ভারতের সেনাবাহিনী এবং শহীদদের জন্য চরম অপমানজনক দাবি করে তিনি
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনারও ঘোষণা দেন।





