নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ উইকেটের বড়
ব্যবধানে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া নারী দল। লর্ডসে
অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই একক আধিপত্য বিস্তার করে অজিরা। প্রথমে ব্যাট করে
নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫০ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। জবাবে ১৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে
রেখেই ১৫১ রানের জয়ের লক্ষ্যে অনায়াসে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। দলীয় স্কোরে
খুব বেশি রান ওঠার আগেই ৬ রানে অ্যামি জোনস এবং ৮ রানে ড্যানি ওয়াট সাজঘরে ফিরে
যান। এরপর তৃতীয় উইকেটে ন্যাট স্কিভার ব্রান্ট ও অ্যালিস ক্যাপসি মিলে শুরুর চাপ
কিছুটা সামলে নেন। ক্যাপসি ২৩ এবং হেথার নাইট মাত্র ২ রান করে আউট হন। তবে ইনিংসের
শেষ পর্যন্ত দারুণ ব্যাটিং করে দলকে টেনে তোলেন স্কিভার ব্রান্ট ও ফ্রেইয়া
ক্যাম্প। ব্রান্টের অপরাজিত ৫৮ এবং ক্যাম্পের অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে
সম্মানজনক স্কোর পায় ইংলিশরা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারজন বোলার একটি করে উইকেট
শিকার করেন।
১৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেও কিছুটা ধাক্কা লাগে।
দলীয় স্কোরে প্রভাব ফেলার আগেই মাত্র ৯ রান করে বিদায় নেন জর্জিয়া ভোল। তবে
দ্বিতীয় উইকেটে বেথ মুনি ও ফোবে লিচফিল্ডের ১০০ রানের বিশাল জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার
জয়ের ভিত পুরোপুরি মজবুত হয়ে যায়। লিচফিল্ড ৪৮ রান করে আউট হন এবং মুনি ৬৪ রানের
একটি চমৎকার ব্যক্তিগত ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর এলিস পেরি ও অ্যাশলে
গার্ডনার মিলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। পেরি ১৩ এবং গার্ডনার ৩ রানে
অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে নারী ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের
শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নারী
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০টি আসরের মধ্যে আটটিতেই ফাইনাল খেলেছে তারা, যার মধ্যে
সাতবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দলটি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এছাড়া
কেবল ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের একবার করে শিরোপা জেতার রেকর্ড
রয়েছে।





