, ,

বিজেপি শাসনের শেষ দেখার ঘোষণা মমতার

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন বিদ্রোহ ও দলীয় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েও

নিজের বয়সকে উপেক্ষা করে দল পুনর্গঠন এবং বিজেপি শাসনের শেষ দেখার ঘোষণা দিয়েছেন

দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয় ও দলের একাধিক নেতার দলত্যাগের

পর যখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখছেন, ঠিক তখনই তিনি

এক ভার্চুয়াল বার্তায় এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

একাত্তর বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান নেত্রী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিশেষ

বক্তৃতায় বিরোধীদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেন যে ‘আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তিত

হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, মন ও মানসিক শক্তিই মানুষের বয়স নির্ধারণ করে’।

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে তিনি কখনো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে কথা বলেছেন কি না।

বিজেপি নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান যে নির্বাচনের ফলাফলের দিন বিজেপির

লোকেরা তার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু কামনা করেছিল, কিন্তু তিনি এই সমস্ত চক্রান্তের

শেষ না দেখে মাঠ ছাড়বেন না।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের বর্তমান কোন্দল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য

করেন যে যারা দল ছেড়ে চলে যেতে চান, তারা নির্দ্বিধায় চলে যেতে পারেন। দলের

বিশ্বস্ত কর্মীদের নিজের ‘স্বর্ণখনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন যে ১৯৯৭ ও ২০০৪ সালের

মতো সম্পূর্ণ একা লড়াই করে ২০২৬ সালে আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করার সাহস ও ক্ষমতা

তার রয়েছে।

তিনি ইতোমধ্যে তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছেন এবং বিপদের দিনে তাদের পাশে ছাতা হয়ে

দাঁড়িয়ে থাকবেন বলে জানান। সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী ‘করবো, লড়বো, বাঁচবো’ স্লোগান

দিয়ে স্পষ্ট করে দেন যে তিনি এখনই রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন না।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে

এবং দলের নিয়ন্ত্রণ মমতার হাত থেকে অনেকটাই ফসকে গেছে। রাজ্য বিধানসভা এবং দেশের

লোকসভা উভয় ক্ষেত্রেই দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্য তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা

করেছেন। অধিকাংশ বিধায়ক এখন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে ঐক্যবদ্ধ

হয়েছেন এবং ২০ জন লোকসভা সংসদ সদস্য একটি ক্ষুদ্র দলের সাথে একীভূত হয়ে দিল্লির

এনডিএ জোটকে সমর্থন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আবেগপূর্ণ বার্তাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যার মাত্র কয়েক

দিন পরেই আগামী ২১ জুলাই দলটির ঐতিহাসিক শহীদ দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ দিনে

এবার দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বের ব্যবধানে পৃথক

দুটি সমাবেশ করতে যাচ্ছে।

এদিকে কলকাতা হাইকোর্ট এক বিশেষ রায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের

অংশটিকে সেন্ট্রাল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের পরিবর্তে বিড়লা

প্ল্যানেটোরিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক শহীদ দিবসের সভা করার অনুমতি প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য যে ১৯৯৩ সালে মমতার যুব কংগ্রেসের সভাপতিত্বের সময়ে বিক্ষোভে পুলিশের

গুলিতে নিহত ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর স্মরণে এই দিবসটি প্রতি বছর পালন করা হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন