গত বছর রাজধানীতে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরো ৫১১ জন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১৭৬ জন (প্রায় ৮০.৩৬ শতাংশ), নারী ২৫ জন (১১.৪১ শতাংশ) এবং শিশু ১৮ জন (৮.২১ শতাংশ)। এদের মধ্যে পথচারীরা ছিল ৪৭.০৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরা ৪৩.৩৭ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা মোট ৯.৫৮ শতাংশ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ঘটে ১১.২৪ শতাংশ, সকাল ১৮.৩৩ শতাংশ, দুপুরে ৯.৫৩ শতাংশ, বিকেলে ১৩.৪৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫.৮৬ শতাংশ এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪১.৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীতে দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭ শতাংশ, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লার ট্রাক ৩৫.১৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২১.৫৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জীপ ৪.১২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা) ১১.৮২ শতাংশ এবং রিকশা ২.৪৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনা থাকায় যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে রাতে ও সকালে দুর্ঘটনার হার বেশি। বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ভারী মালবাহী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, যা পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা দেখা দিয়েছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোডসহ বিমানবন্দর সড়ককে দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অপর্যাপ্ত সড়ক, একই সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত ফুটওভার ব্রিজ, সড়কসৃষ্ট সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা ও সড়ক চাঁদাবাজি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য বিভিন্ন সুপারিশ প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে— আধুনিক বাস সার্ভিসের জন্য রুট রেশনালাইজেশন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, বাসের জন্য আলাদা লেন চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মালিকানাধীন বাস পরিষেবা বাধ্যতামূলক করা, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বহুতল পার্কিং স্টেশন নির্মাণ, রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ, রাজধানীর বাইপাস সড়ক তৈরি, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া।





