শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩

হামজাদের কোচ হওয়ার জন্য এক সপ্তাহে আড়াই শতাধিক আবেদন

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের শূন্য পদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ২৫০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কার্যালয়ে। এ ধরনের বিপুল ও বৈচিত্র্যময় সাড়া কখনোই বাফুফের ইতিহাসে দেখা যায়নি। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগে তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ‘ডাগআউট’ এর গুরুত্ব ও আকর্ষণ অনেক বেড়ে গেছে।

বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম এই সাড়াকে দেশের ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গুলশানে নিজ বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, এত বেশি সংখ্যক আবেদন কেবলমাত্র সংখ্যাগত দিক থেকে নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমবর্ধমান ভাবমূর্তির জন্যও গৌরবের বিষয়। তাঁর মতে, এই বিশাল আগ্রহ দেশের ফুটবল পরিস্থিতির উন্নতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য একান্তই আশাব্যঞ্জক।

আবেদনকারীদের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে উপস্থিত রয়েছেন অনেক হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক কোচ, যেমন জার্মানির অভিজ্ঞ কোচ অ্যান্টোইন হেই ও লেবাননের সাবেক কোচ ডেভিড ডোনিগা। আরও নজরকারা হয়েছেন মন্টিনিগ্রোর কোচ মিঅদ্রাগ রাদুলোভিচের নাম, যিনি লেবাননের কোচ থাকাকালীন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারানোর সম্মানজনক ও কষ্টকর অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও দেশীয় কোচরাও এই পদে আগ্রহ দেখিয়েছেন, যেমন দেশের অন্যতম সফল কোচ ও বর্তমান আবাহনী লিমিটেডের কোচ মারুফুল হক এবং অভিজ্ঞ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু।

বাফুফের সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন খুবই গুরুত্ব সহকারে শুরু হয়েছে। প্রথমে প্রোফাইল যাচাই-বাছাই করে ২৫০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৫০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা বা ‘পুল’ তৈরি করা হবে। এরপর সেরা প্রার্থীদের নিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকবে বাফুফে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারটি পরিচালনা করবেন ফেডারেশনের সভাপতি নিজে।

২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল বাফুফে যখন এই কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছিল, তখন থেকেই ক্রীড়া মহলে আলোচনার গুঞ্জন শুরু হয় যে, হামজাকে অন্তর্ভুক্ত করলে কোচদের মনোভাব ও কার্যপ্রণালীতে পরিবর্তন আসবে। এই ব্যাপক আবেদন তারই প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, এই বিখ্যাত ও প্রতিশ্রুতিশীল আবেদনকারীদের মধ্যে কাকে দলে সুযোগ দেওয়া হয় এবং হামজা-জামালদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ কোন উচ্চতায় পৌঁছায়। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য দেশের ফুটবল অঙ্গনে নতুন একটি উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন