শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩

টি-টোয়েন্টিতে ফিফটির ‘সেঞ্চুরি’: ওয়ার্নার-কোহলিদের সঙ্গে বাবর আজমের স্বীকৃতি

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অসাধারণ ও ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চলতি আসরে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে বুধবার রাতে তারকা এই ব্যাটার এক দারুণ ইনিংস খেলার পথে তাঁর শততম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে এই ফরম্যাটে ফিফটির ‘সেঞ্চুরি’ করার বিরল কীর্তি অর্জন করলেন পেশোয়ার জালমির অধিনায়ক হিসেবে। বাবর আজমের এই অর্জন তাকে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের কিংবদন্তিদের সারিতে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে বাবর আজমের আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছেন কেবল তিনজন ক্রিকেটের প্রবাদপুরুষ। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি ফিফটি রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের — ১১৬টি। এরপর এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি, যার ঝুলিতে রয়েছে ১০৭টি। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ডের জস বাটলার, যার সংগ্রহ ১০০টি ফিফটি। বাবর আজমও এখন এই তালিকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১০০টি ফিফটি নিয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছেন এবং জনপ্রিয়তার সাথে তাঁর রেকর্ডের উন্নতি আসন্ন বলে আশা করা হচ্ছে।

মাইলফলক ছুঁইয়ে এই রাতে মাঠের ক্রিকেটেও দিনলিপি করেছেন বাবর আজম। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের সব উইকেট হারানোর পর দলের জন্য ১৫৪ রানের মাঝারি লক্ষ্য স্থাপন করেন তারা। রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই শক্ত ভিত গড়ে দেন বাবর। মিডল অর্ডারে কুশল মেন্ডিসের ২১ রানের পর আউট হলেও, অধিনায়ক অ্যারন হার্ডির সঙ্গে জুটিতে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। বাবর শেষ পর্যন্ত ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে শততম অর্ধশতকের সম্মান। এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে জয় খুবই সহজ করে তোলে।

বিশেষ এই জয়ের ফলে পাকিস্তান সুপার লিগের টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে পেশোয়ার জালমির জন্য। বর্তমানে তারা ৭ ম্যাচে ৬টি জয় ও ১ পয়েন্ট ড্র নিয়ে সর্বোচ্চ ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি দলের ধারাবাহিক সাফল্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে শিরোপার প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাবর আজমের একের পর এক রেকর্ড ভেঙে নিজেকে নতুন করে পরিচিত করানোর এই ধারাটি পাকিস্তানের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত। এই সর্বস্তরে শততম ফিফটির ঘটনাটিতে বিশ্ব ক্রিকেট থেকে প্রশংসা বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ভাসছে এই তারকা খেলোয়াড়।

পোস্টটি শেয়ার করুন