বাংলাদেশের রক সংগীতের কিংবদন্তি এবং অর্থহীন ব্যান্ডের প্রাণভোমরা সাইদুস সালেহীন
সুমন, যিনি ভক্তদের কাছে ‘বেজবাবা সুমন’ নামেই সমধিক পরিচিত, বড় পর্দায় নতুন এক চমক
নিয়ে হাজির হচ্ছেন। সাধারণত নিজের গান চলচ্চিত্রে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে
অত্যন্ত রক্ষণশীল হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সুমনের সংগীত ও সৃজনশীল উপস্থিতি চলচ্চিত্র
অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায়
তাঁর গানের অভাবনীয় সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই জানা গেল, জনপ্রিয় নির্মাতা
রায়হান রাফীর আসন্ন চলচ্চিত্র ‘আন্ধার’-এও থাকছেন তিনি। তবে এবার কেবল গায়ক বা
সংগীত পরিচালক হিসেবেই নয়, সিনেমাটির গল্পের পেছনের কারিগরদের একজন হিসেবেও নাম
লিখিয়েছেন এই তারকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুমন নিশ্চিত করেছেন যে, ‘আন্ধার’ সিনেমায় দর্শকরা তাঁর
পুরোনো জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি নতুন কিছু গানও শুনতে পাবেন। দীর্ঘ বিরতির পর
সিনেমার জন্য নতুন গান করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে
গানটির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, তাই এখনই সবকিছু খোলাসা
করতে চান না। তবে তাঁর এই অংশগ্রহণ যে দর্শকদের জন্য বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে, সেই
ইঙ্গিত তিনি দিয়ে রেখেছেন। মূলত সৃজনশীল কাজের প্রতি সুমনের যে দায়বদ্ধতা, তারই
প্রতিফলন দেখা যাবে এই সিনেমায়।
‘আন্ধার’ সিনেমার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর গল্প। সাইদুস সালেহীন সুমন নিজেই এই
সিনেমার গল্পের অন্যতম রচয়িতা। তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে গল্প লিখেছেন ক্রিপটিক ফেইট
ব্যান্ডের শাকিব চৌধুরী এবং আদনান আদিব খান। সুমন ও শাকিব চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবনে
ভৌতিক ও রহস্যময় অভিজ্ঞতার প্রতি এক ধরণের রোমাঞ্চকর টান রয়েছে, যার সন্ধানে তাঁরা
এক সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেই বাস্তব জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা
আর কল্পনা থেকেই ‘আন্ধার’–এর চিত্রনাট্যের ভিত তৈরি হয়েছে। সুমন দাবি করেছেন, এটি
কেবল একটি প্রথাগত ভৌতিক চলচ্চিত্র নয়; বরং এখানে অ্যাকশন, থ্রিলার, কমিক রিলিফ এবং
গোয়েন্দা গল্পের এক অনন্য সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যাবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে এ ধরণের
বহুমুখী ঘরানার কাজ এর আগে কখনো হয়নি।
সিনেমাটি তারকাবহুল কাস্টিংয়ের কারণেও ইতিমধ্যে আলোচনায় রয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে
অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ এবং নাজিফা তুষি। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে
দেখা যাবে চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, গাজী রাকায়েত এবং মোস্তফা মনওয়ারের মতো
শক্তিমান অভিনয়শিল্পীদের। গত বছরই সিনেমাটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে এবং
বর্তমানে এটি মুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ বছরের
মধ্যেই সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে দাপটের সাথে যাত্রা শুরু করবে।
সুমনের সংগীত বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টি
করেছে। তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় তাঁর ‘চাইতেই পারো তুমি’
গানটি যেভাবে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত গায়নে মুখরিত হচ্ছে, তা সুমনকে
আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। নিজের পছন্দের নির্মাতাদের কাজের সঙ্গী হতে পারাটাকে তিনি
গর্বের বিষয় বলে মনে করেন। তাঁর মতে, ভালো গল্পের এবং দক্ষ নির্মাতাদের সাথে কাজ
করার মাধ্যমে বাংলা সিনেমার এই সোনালী বিবর্তনের অংশ হওয়া এক ধরণের শিল্পিক তৃপ্তি।
এখন দেখার বিষয়, ‘আন্ধার’ সিনেমার রহস্য আর সুমনের নতুন সুর দর্শকদের কতটা
মোহাবিষ্ট করতে পারে।





