শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩

হাড়হিম করা আতঙ্ক নিয়ে দেশের সিনেপ্লেক্সে ‘দ্য মমি’

বিশ্বজুড়ে ভৌতিক সিনেমার দর্শকদের মাঝে নতুন এক আতঙ্কের আবহ তৈরি করে

আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে আমেরিকান সিনেমা ‘দ্য মমি’। আন্তর্জাতিক মুক্তির

সাথে সঙ্গতি রেখে গতকাল থেকে বাংলাদেশের আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ তথা স্টার

সিনেপ্লেক্সের শাখাগুলোতেও প্রদর্শিত হচ্ছে এই হাড়হিম করা চলচ্চিত্রটি। প্রখ্যাত

পরিচালক লি ক্রোনিনের সুনিপুণ নির্দেশনায় নির্মিত এই ছবিটি ‘দ্য মমি’

ফ্র্যাঞ্চাইজির পূর্ববর্তী সিনেমাগুলোর তুলনায় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ভয়ংকর

অভিজ্ঞতার বার্তা দিচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে ‘দ্য মমি’ সিরিজের সিনেমা বলতে দর্শকরা যে ধরণের মারমার-কাটকাট

অ্যাডভেঞ্চার বা ফ্যান্টাসি দেখে অভ্যস্ত ছিলেন, এবারের প্রেক্ষাপট তার চেয়ে আমূল

আলাদা। এটি একটি ‘আর রেটেড’ বডি-হরর সিনেমা, যেখানে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে চরম

নৃশংসতা আর মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। সিনেমার মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন

সাংবাদিক ও তাঁর সুখী পরিবারকে কেন্দ্র করে। গল্পের শুরুতে একটি আদর্শ ও আনন্দময়

পরিবারের চিত্র দেখা গেলেও হঠাৎ একদিন তাঁদের ছোট মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে গেলে সবকিছু

ওলটপালট হয়ে যায়। দীর্ঘ আট বছর ধরে তন্নতন্ন করে খুঁজেও যখন মেয়েটির কোনো হদিস মেলে

না, তখন পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

কাহিনীর মূল নাটকীয়তা শুরু হয় যখন দীর্ঘ আট বছর পর অপ্রত্যাশিতভাবে মরুভূমির এক

দুর্গম এলাকায় সেই নিখোঁজ মেয়েটিকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে বিস্ময়কর বিষয়

হলো, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মেয়েটির শারীরিক গড়ন বা বয়সে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

মেয়েকে ফিরে পেয়ে শুরুতে পরিবারটিতে স্বস্তি ফিরলেও শীঘ্রই তা এক বিভীষিকাময়

পরিস্থিতির রূপ নেয়। বাড়িতে ফেরার পর থেকেই মেয়েটির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা

যায় এবং সে রহস্যময় সব কথা বলতে শুরু করে।

নিশাচর প্রবৃত্তি আর রাতের আঁধারে মেয়েটির শরীরে ধীরে ধীরে শুরু হওয়া ভৌতিক

পরিবর্তনগুলো দেখে শিউরে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে তাঁদের মনে হতে থাকে,

তাঁরা যাকে নিজেদের সন্তান মনে করে ঘরে ফিরিয়ে এনেছেন, সে আসলে তাঁদের চেনা সেই

মেয়েটি নয়—বরং অন্য কোনো অশুভ সত্তা। এই অলৌকিক পরিস্থিতির চাপে পরিবারটিতে চরম

বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মমতাময়ী মা যখন তাঁর সন্তানকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে চান, তখন

বাবা পরিস্থিতির রূঢ় ও ভয়ংকর সত্যটি অনুধাবন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই মানসিক

দ্বন্দ্বে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যান তাঁরা, যা সিনেমাটিতে পারিবারিক

ট্র্যাজেডির এক করুণ রূপ দেয়।

সিনেমাটিতে জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই এবং নাটালি গ্রেসের মতো

প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীরা তাঁদের চরিত্রের গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে নিখোঁজ

কন্যা ফিরে আসার পর তাঁর যে রহস্যময় রূপান্তর, তা দর্শকদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতে

সক্ষম হয়েছে। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, পারিবারিক আবেগ আর হাড়হিম করা দৃশ্যের

সংমিশ্রণে তৈরি এই সিনেমাটি এ বছরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং ভয়ংকর ভৌতিক সৃষ্টি হিসেবে

চিহ্নিত হবে। যারা গতানুগতিক রোমাঞ্চের বাইরে গিয়ে সত্যিকার অর্থে মেরুদণ্ডে কাঁপন

ধরানো অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাঁদের জন্য ‘দ্য মমি’র এই নতুন সংস্করণটি একটি আদর্শ

পছন্দ হতে পারে। বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে এই সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক

আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন