বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এখন থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইরান। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি আবার চালু করার ঘোষণা দেয়। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবানন ও ইস্রায়েলের মধ্যে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলার সময়েই এই প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তটি লেবাননের শান্তিপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে, যাতে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সম্ভব হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের পরিবহন ও সমুদ্র সংস্থার দেওয়া নির্দিষ্ট রুট বা পথ অনুসরণ করতে হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, যা চলাকালীন এই নির্দেশনা কার্যকরী হয়। এই পরিস্থিতির মাঝে ইরানের এই উন্মুক্ত ঘোষণা আন্তর্জাতিকভাবে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্প নিজেও শুক্রবার সেটি নিয়ে টুইট করেন, যেখানে তিনি বলেন, ‘ইরান আজ ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি খোলা এবং চলাচলের জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ!’ এই ঘোষণা শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে শঙ্কা কমতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ ও মূল্যবহ সম্পদ পরিবহন করে থাকে। এটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অপরিহার্য পথ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহণ হয়। অধিকাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে যায়, যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায়—চীন, ভারত, জাপান ও অন্য দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরাসরি তেল আমদানি করে থাকে। তাই এই নৌপথের অচলাবস্থার প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়ে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা বড় প্রভাব সৃষ্টি করে।





