সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

চেলসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল, ম্যানইউয়ের জয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ও টটেনহামের ড্র

ইংরেজি প্রিমিয়ার লিগের একটি নাটকীয় মুহূর্তে, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় চেলসি। এই হারে তারা আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দৌড় থেকে অনেকটাই দূরে চলে যায়, যা তাদের জন্য হতাশাজনক ঘটনা। অন্যদিকে, ইনজুরি টাইমে শটটি গোলে রূপান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে ব্রাইটনের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয় টটেনহাম হটস্পার। এই কারণে তারা অবনমন অঞ্চলে নেমে এসেছে, যা লিগ টেবিলের গণনাকে জটিল করে তুলেছে এবং সমর্থকদের মধ্যে গভীর হতাশার উদ্রেক করেছে।

চেলসির জন্য এই রাতে ছিল বিষাদময়, কারণ পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলের দিকে মাত্র একটি শটই করতে সক্ষম হয়। মূলত, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ম্যাথিউস কুনহার, যার একমাত্র গোলে তারা জয় লাভ করে। এই হারে চেলসি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মত গোলহীন টানা চার ম্যাচ খেলার লজ্জাজনক রেকর্ডে নাম লেখে। বর্তমানে, লিয়াম রোজেনিওর দল টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে। আগামী মৌসুমে ইংল্যান্ড থেকে পাঁচটি দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পাবে, কিন্তু পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে তারা চার পয়েন্টে পিছিয়ে থাকায় চেলসির পথ অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোচ রোজেনিও পরিস্থিতিকে ‘পাহাড়ের মতো বাধা’ বলে উল্লেখ করেছেন, এবং ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচকে এখন অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছেন, যেখানে জিততে না পারলে তাদের জন্য পরিস্থিতি খুবই অন্ধকার হতে পারে।

যদিও রাতের এই ফল চেলসির জন্য বিষাদময় ছিল, সেখানে মনোভাব ছিল অন্যরকম, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শিবিরে বইছে উচ্ছ্বাস। ইনজুরি এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলেও, মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যরা তাদের মানসিক দৃঢ়তা যুক্ত করে দেখিয়েছেন অসাধারণ। বিশেষ করে, শেষ মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরো ইনজুরিতে পড়ার পরও রক্ষণভাগ খোলা থাকায় তারা কুনহার গোলটি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রশংসিত হয়েছে কোচের পক্ষ থেকে। এই জয়ের ফলে, ৩৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৫৮ পয়েন্ট হয়ে গেছে, এবং তারা টেবিলের তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে, ফলে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকিটের নিশ্চয়তা প্রায় সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে, একই রাতে ছিল চরম নাটকীয়তার সাক্ষী টটেনহাম হটস্পার। ঘরের মাঠে ব্রাইটনের বিপক্ষে তারা ২-২ গোলের ড্র করে, যা তাদের জন্য রেলিগেশন শঙ্কা সৃষ্টি করে। নতুন কোচ রবার্তো ডি জার্বির অধীনে প্রথম জয় পাওয়ার আশা জাগলেও, যোগ করা সময়ে ব্রাইটনের বদলি খেলোয়াড় জর্জিনিও রাটারের গোলটি তাদের সব আশা ভেঙে দেয়। প্রথমার্ধে পেদ্রো পোরোর গোলে এগিয়ে থাকলেও, বিরতির আগে কাওরু মিতোমার গোলের মাধ্যমে ব্রাইটন সমতা ফেরায়। এরপর ৭৭ মিনিটে জাভি সিমন্সের গোলের মাধ্যমে টটেনহাম ফের এগিয়ে যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ মুহূর্তে ব্রাইটনের জর্জিনিও রাটার গোল তাদের সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দেয়।

এই ড্রয়ের ফলে টটেনহামের জয়হীন সংগ্রহ এখন টানা ১৫ ম্যাচে পৌঁছেছে, যা ১৯৭৭ সালের পর তাদের জন্য এক স্মরণীয়, কষ্টকর অধ্যায়। তারা এখন দ্বিতীয় বিভাগে নামার শঙ্কায় পা ঢুকিয়ে দিয়েছে, যেখানে তাদের অবশিষ্ট পাঁচটি ম্যাচই তাদের ভাগ্য নির্ধারক। তবে, কোচ ডি জার্বি এখনও আশাবাদী, তিনি মনে করেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের দলের সক্ষমতা আছে বাকি ১৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে অবনমন ঠেকানোর। পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন মুখিয়ে দেখে, শেষ পর্যন্ত কে টিকে থাকবে এবং কার স্বপ্নভঙ্গ হবে, এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন