সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

৭৮৩ দিনের খরা কাটিয়ে বাবরের রেকর্ড সেঞ্চুরি: করাচিতে কোয়েটাকে উড়িয়ে দিল পেশোয়ার

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে দীর্ঘ অপেক্ষার

অবসান ঘটিয়েছেন বাবর আজম। করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে

রোববার এক অনবদ্য সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন পেশোয়ার জালমি অধিনায়ক। দীর্ঘ ৭৮৩ দিন বা

প্রায় দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিন অঙ্কের দেখা পেলেন এই লিজেন্ডারি

ব্যাটার। বাবরের এই রেকর্ডময় দিনে কোয়েটাকে ১১৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে আসরে

নিজেদের অপরাজেয় যাত্রা অব্যাহত রেখেছে পেশোয়ার।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা বাবর আজম পুরো ২০ ওভার ক্রিজে থেকে

প্রতিপক্ষের বোলারদের শাসন করেছেন। মাত্র ৫২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার মাধ্যমে তিনি

পিএসএলের ইতিহাসের দ্রুততম শতকের নতুন রেকর্ড গড়েন। ইনিংসের একদম শেষ বলে কাঙ্ক্ষিত

এই মাইলফলক ছোঁয়ার মুহূর্তে তৈরি হয়েছিল টানটান উত্তেজনা। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে

শেষ বলে বাবরের প্রয়োজন ছিল দুই রান। একটি শট খেলে ঝুঁকি নিয়ে দ্রুততম দৌড়ে দ্বিতীয়

রানটি সম্পন্ন করার সাথে সাথেই করাচির গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে। ২০২৪ সালের

ফেব্রুয়ারির পর এটিই বাবরের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।

এই শতকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে আরও একটি বিশ্বরেকর্ড যোগ করলেন বাবর

আজম। এটি তাঁর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি। এর মাধ্যমে তিনি

অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারকে পেছনে ফেলে সর্বকালের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি

সেঞ্চুরিকারীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। এই তালিকায় ২২টি সেঞ্চুরি নিয়ে

সবার উপরে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেইল। উল্লেখ্য যে,

পিএসএলের মঞ্চে এটি বাবরের তৃতীয় সেঞ্চুরি। এখন পর্যন্ত ৩৩৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ

খেলে ৪৭.৭২ গড়ে ১২ হাজারের বেশি রান সংগ্রহ করেছেন পাকিস্তানের এই সাবেক অধিনায়ক,

যেখানে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১২৮.৭৬।

মাঠের লড়াইয়ে বাবরের বিধ্বংসী ইনিংসের পাশাপাশি লঙ্কান ব্যাটার কুশল মেন্ডিসের ৮৩

রানের ঝড়ো ইনিংস পেশোয়ারকে বিশাল সংগ্রহ এনে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেট

হারিয়ে ২৫৫ রানের পাহাড় দাঁড় করায় জালমিরা। ২৫৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে

নেমে শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের ব্যাটাররা। পেশোয়ারের

বোলারদের তোপে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি তারা। মোহাম্মদ বাসিত ও আলী রাজা অত্যন্ত

নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৩টি করে উইকেট শিকার করলে কোয়েটার ইনিংস মাত্র ১৩৭ রানেই থমকে

যায়।

১১৮ রানের এই বিশাল জয় পেশোয়ার জালমিকে পয়েন্ট টেবিলের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলে সবকটিতেই অপরাজিত থেকে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের

শীর্ষস্থান মজবুত করেছে বাবর আজমের দল। অন্যদিকে, বাবরের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের

দিনে বড় ব্যবধানের হার কোয়েটার জন্য এক বড় ধরণের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফুটবল

বিশ্বের নজর এখন বাবরের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে, কারণ তিনি যে আবারও নিজের সেরা

ছন্দে ফিরেছেন, তার প্রমাণ করাচির এই রেকর্ডময় ইনিংসেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন