মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩

আলোচনায় না এলে ‘সমস্যায়’ পড়বে ইরান: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে তাঁর কঠোর অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত

করে তেহরানকে এক বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান শেষ পর্যন্ত

আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হবে। তবে যদি তারা এই পথ পরিহার করে, তবে দেশটিকে এমন এক

ভয়াবহ ‘সমস্যার’ মোকাবিলা করতে হবে যা তারা ইতিহাসে আগে কখনও দেখেনি। কাতারভিত্তিক

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রিয় রেডিও প্রোগ্রাম ‘দ্য জন ফ্রেডরিকস শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে

ট্রাম্প তাঁর এই আত্মবিশ্বাসের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি ইরান

আলোচনায় আসবে। আর যদি তারা তা না করে, তবে তারা এমন ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে যা

আগে কখনও তাঁদের প্রত্যক্ষ করতে হয়নি।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মার্কিন প্রশাসন তেহরানের

ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করে চলেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ভাষণে কেবল হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং একটি

সম্ভাব্য সমঝোতার আশাও দেখিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’

পৌঁছাতে পারলে ইরান তাঁদের বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়

সহযোগিতা এবং সুযোগ পাবে। তবে এই চুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি

অলঙ্ঘনীয় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, আলোচনার

মাধ্যমে যে প্রক্রিয়াই শুরু হোক না কেন, সেখানে ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র

অর্জনের কোনো সুযোগ রাখা হবে না। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণই হবে যেকোনো সম্ভাব্য

চুক্তির মূল ভিত্তি।

ইরান ইস্যুতে নিজের গৃহীত কঠোর পদক্ষেপগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন,

বর্তমান পরিস্থিতিতে কড়া অবস্থান নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল

না। তিনি মনে করেন, ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে এই ধরণের কঠোর নীতি গ্রহণ করা

সময়ের দাবি ছিল। তাঁর মতে, আগের নীতিগুলো কার্যকর না হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়েই এই পথে

হেঁটেছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য একদিকে যেমন বড় ধরণের

মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, অন্যদিকে একটি আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত।

তেহরান এখন ট্রাম্পের এই চূড়ান্ত আলটিমেটাম ও ‘দেশ পুনর্গঠনের’ প্রস্তাবের বিপরীতে

কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান কৌতূহলের বিষয়। তবে

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতাকে এক নতুন অনিশ্চয়তার

মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন