বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩

লিস্টার সিটির চরম অবনমন: হামজার দল তৃতীয় স্তরে নামল

এক সময়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন ছিল লিস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব। কিন্তু এবার দারুণ দুঃস্বপ্নের মতো ঘটনা ঘটছে, তারা ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর বা লিগ ওয়ানে নামার পথে দাঁড়িয়ে। মঙ্গলবার নিজের ঘরের মাঠ কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে হাল দক্ষিণের প্রতিপক্ষের সঙ্গে ড্র করে ২-২ গোলে শেষ হয় ম্যাচটি, আর এই ফলের মাধ্যমে তাদের অবনমন নিশ্চিত হয়ে গেছে। টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ম্যাচে জয়ই তাদের জন্য একমাত্র সুযোগ ছিল, তবে মাঠে পারফরম্যান্স কাঙ্ক্ষিত ফল আনে না। ফলে অবনমনের আয়না দেখে গেলো তারা।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ১৮ মিনিটে লিয়াম মিলারের গোলে পিছিয়ে পড়ে লিস্টার। তবে বিরতির পর তারা দারুণভাবে খেলা ঘুরিয়ে আনে। ৫২ মিনিটে জেমস জাস্টিনের পেনাল্টি এবং ৫৪ মিনিটে লুক থোমাসের গোলের মাধ্যমে তারা এগিয়ে যায় ২-১ এ। এই মুহূর্তে মনে হয়, এই অগ্রগতি তাদের ভাগ্য ফিরিয়ে আনবে, কিন্তু ৬৩ মিনিটে ওলি ম্যাকবার্নির সমতাসূচক গোল পরিস্থিতি পালটে দেয়। এরপর আর কোন গোল না হওয়ায় দুই দলই শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে মাঠ ছাড়ে।

এই ড্রয়ের ফলে লিস্টার সিটি পয়েন্ট টেবিলের তলানির কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং তারা নিরাপদ এলাকার থেকে ৭ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে। লিগে মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি থাকায় কাগজে কলমে তাদের জন্য অবনমনে রুখে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ম্যাচের শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে ক্ষুব্ধ ভক্তরা ধেয়ে যান, আর সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার হামজা চৌধুরী ক্লাব ও সতীর্থদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

লিস্টার সিটির এই পতন বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক আকারে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, কারণ মাত্র ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে তারা রূপকথার মতো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল। সেই সময়ে তাদের তারকা খেলোয়াড় জেমি ভার্ডি, রিয়াদ মাহরেজের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা ছিল দলের প্রাণ। ২০২১ সালে তারা এফএ কাপ জিতলেও 최근 বছরগুলোতে তারা প্রিমিয়ার লিগ থেকে বারবার নামছে, আর এবার সরাসরি তৃতীয় স্তরের লিগে নামতে বাধ্য হলো।

দলের এই দুর্দশার জন্য কোচ গ্যারি রোয়েট দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, একটি ক্লাব শুধুমাত্র এক বা দুই ম্যাচের ব্যর্থতায় নয়, পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই অবনমন ঘটে। তিনি এই কঠিন সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে ক্লাবটিকে পুনর্গঠন করার ওপর জোর দিয়েছেন। এখন দেখা হবে, এই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব কত দ্রুত ফিরে আসার লড়াই চালিয়ে যায়, এবং তাদের আবারও আগের রূপে ফিরে আসার কতটা সম্ভাবনা রয়েছে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন