সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩

শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো সুরাহা ছাড়াই

আটকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরণের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা

গেছে। সোমবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৫৭

দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ

কমে ৪ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স

সূত্রে এই বাজার পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।

শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। মার্কিন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্বজুড়ে

তেলের দাম পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের

প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘তাৎক্ষণিক শান্তি চুক্তির আশা ভেঙে পড়েছে। একই

সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় স্বর্ণের বাজার চাপের মুখে পড়েছে।’

মূলত হরমুজ প্রণালি অচল থাকায় সরবরাহ সংকটের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায়

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি

বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা উচ্চ

পর্যায়ে বজায় রাখতে পারে। স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিপরীতে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ

হিসেবে গণ্য হলেও উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগকারীরা এই সুদবিহীন সম্পদ থেকে মুখ

ফিরিয়ে নিচ্ছেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো বড় বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোও তাদের পূর্বের

সুদের হার কমানোর পূর্বাভাস পিছিয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগে

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধ এবং

জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল দাম বর্তমানে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রধান

উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ চীনে

স্বর্ণ উৎপাদন হ্রাসের খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার ধারণা করছেন যে, কোনো

স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০

ডলারের মধ্যে ওঠানামা করবে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের

দামও আন্তর্জাতিক বাজারে নিম্নমুখী রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন