দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প অর্থায়নের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে ‘সাজিদা অরেঞ্জ
জিরো-কুপন বন্ড’-এর ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি এবং এই বন্ডের ইস্যু ম্যানেজার ব্র্যাক
ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই
প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। ডিএসই’র নিজস্ব ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস)
প্ল্যাটফর্মে এটিই প্রথম প্রাইভেট বন্ড, যা যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা
হয়েছে। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত এই সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
বন্ডটির মোট অভিহিত মূল্য ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা হলেও এর মধ্যে ৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার
অংশটি ইএসএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা
মাথায় রেখে বন্ডটি ১, ২ ও ৩ বছর—এই তিন মেয়াদে সাজানো হয়েছে, যেখান থেকে
বিনিয়োগকারীরা তাঁদের পছন্দমতো সময়সীমা বেছে নিতে পারবেন। চুক্তি স্বাক্ষর
অনুষ্ঠানে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামোর ওপর
গুরুত্বারোপ করে বলেন, “অরেঞ্জ বন্ডের মতো উদ্যোগ পুঁজিবাজারে বিকল্প অর্থায়নের
নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।” তিনি মনে করেন, এই ধরণের উদ্যোগ দেশের জনমিতিক সুবিধাকে
কাজে লাগিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়তে সহায়ক হবে।
সাজিদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও মো. ফজলুল হক বন্ডটির সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে
বলেন যে, নারীদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ‘অরেঞ্জ বন্ড’ একটি
সময়োপযোগী পদক্ষেপ। অন্যদিকে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা সৈয়দ রাশেদ হোসেন মনে করেন, এই বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক
মানসম্পন্ন থিম্যাটিক বন্ড বাজারের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এটি দেশি-বিদেশি
বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ
করবে, যেখানে সামাজিক কল্যাণের পাশাপাশি নিশ্চিত আর্থিক রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ
রয়েছে। ডিএসই’র নিকুঞ্জ অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বন্ডটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বৈচিত্র্য আনতে বড়
ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।





