ভারতে জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। গত দশ দিনে দেশটিতে
চতুর্থবারের মতো বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য। গতকাল শনিবার ভারতের
রাজধানী নয়াদিল্লিতে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৬১ রুপি এবং
ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৭১ রুপি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই দফায় দাম বাড়ার ফলে ইতিহাসে
প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম একশ রুপির গণ্ডি ছাড়িয়ে ১০২ দশমিক ১২
রুপিতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডিজেলের দামও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে,
বর্তমানে যা প্রতি লিটার ৯৫ দশমিক ২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ভারতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও।
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২ দশমিক ৮৭ রুপি বেড়ে
বর্তমানে ১১৩ দশমিক ৫১ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৮০ রুপি
বাড়ায় কলকাতায় তা বিক্রি হচ্ছে ৯৯ দশমিক ৮২ রুপিতে। মুম্বাইতে প্রতি লিটার পেট্রোল
এখন ১১১ দশমিক ২১ রুপি এবং ডিজেল ৯৭ দশমিক ৮৩ রুপিতে পাওয়া যাচ্ছে। চেন্নাইয়েও
পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ১০৭ দশমিক ৭৭ এবং ৯৯
দশমিক ৫৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত দশ দিনের ব্যবধানে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম
মোটের ওপর সাত রুপিরও বেশি বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তাই এই
মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র
সংঘাতের ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ
প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম
হয়েছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় তেল সরবরাহকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন ও ভারত
পেট্রোলিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্তর্জাতিক বাজার
থেকে চড়া দামে তেল কিনেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্থিতিশীল রেখেছিল। এর ফলে প্রতিদিন
সংস্থাগুলোর প্রায় এক হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহক
পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়
বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিবহন খরচ বাড়ার সরাসরি প্রভাবে ইতিমধ্যে বাজারে দুধ, রুটিসহ
বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। একই
সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর সোনা কেনা থেকে
বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনগুলোতে
ভারতের অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, ভারতে গত ১৫ মে থেকে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ১৫ মে
এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ রুপি বাড়ার পর ১৯ মে ও ২৩ মে আরও দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেলের এই ঊর্ধ্বগতি কবে নাগাদ স্থিতিশীল
হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছে না তেল সরবরাহকারী
প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।





