চীনের মর্যাদাপূর্ণ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট’
প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদের প্রথম
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা
দুলছে)’। ছবিটির প্রযোজক অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে এই আনন্দ
সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন। এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগটি সাধারণত এশিয়ার উদীয়মান ও
প্রতিভাবান নির্মাতাদের নতুন কাজ বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত,
যেখানে বাংলাদেশের এই সিনেমাটি স্থান করে নেওয়া এক বড় অর্জন।
গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই সাদা-কালো
চলচ্চিত্রটি। সিনেমাটিতে কুসংস্কার ও পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে একজন
অন্ধ নারীর আত্মমুক্তির লড়াইকে উপজীব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে তিন নারীর যাপিত
জীবনের সংগ্রামের চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নির্মাতার মতে, নারীর স্বাধীনতা,
বিশ্বাস ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের গভীর প্রশ্নগুলোকে এই চলচ্চিত্রে অত্যন্ত কাব্যিক
ঢঙে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতার
জন্ম দেবে।
উৎসবের মূল আয়োজনে অংশ নিতে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাংহাই যাচ্ছেন পরিচালক ইশতিয়াক
আহমেদ, প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক এবং ছবির প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী সানজিদা আক্তার।
আগামী ১৫ জুন উৎসবের নির্ধারিত প্রদর্শনীতে তারা উপস্থিত থাকবেন এবং আন্তর্জাতিক
সমালোচকদের মুখোমুখি হবেন। নির্মাতা ও প্রযোজক এই অর্জনকে বাংলাদেশের স্বাধীন
চলচ্চিত্র চর্চার এক বড় জয় এবং পুরো টিমের দীর্ঘ প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সিনেমাটির নির্মাণ প্রক্রিয়া ছিল বেশ দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ। ২০২২ সালে এই সিনেমার
কাজ শুরু হলেও ২০২৩ সালে এসে বিপত্তির মুখে পড়তে হয়। সে সময় দৃশ্যধারণ করা কিছু
ফুটেজ আকস্মিকভাবে হারিয়ে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে টিম। পরবর্তীতে পুনরায়
শুটিং শুরু করে ২০২৫ সালে এর কাজ পুরোপুরি শেষ করা হয়। ছবিটিতে সানজিদা আক্তার
ছাড়াও তাহমিদা রহমান ও সুমাইয়া হকসহ একঝাঁক তরুণ শিল্পী অভিনয় করেছেন, যাদের কঠোর
পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফসল এই আন্তর্জাতিক সম্মান।
সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসব শেষে সিনেমাটি বিশ্বের আরও বেশ কিছু খ্যাতনামা উৎসবে
প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের। আন্তর্জাতিক আঙিনায় সিনেমাটির যাত্রা শেষ
হলে এটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার চিন্তা করছেন প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গল্পের এমন উপস্থিতি দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য নতুন পথ উন্মোচন
করবে এবং তরুণ নির্মাতাদের বিশ্বমানের কাজ করতে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে
করছেন।





