পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল বেড়ে
যাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। ঈদযাত্রার সাত দিনে (২৬ মে থেকে ১ জুন)
দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ৯০ জন নিহত এবং ১৩৫ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীসহ
দেশের বিভিন্ন জেলার সড়কে এই প্রাণহানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদ ঘিরে লাখো মানুষের বাড়ি ফেরা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ,
বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, মহাসড়কে মোটরসাইকেলের বাড়তি চলাচল এবং
বছরব্যাপী সড়কে অব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিরা।
তারা আরো বলছেন, ঈদের সময় গণপরিবহন সংকট ও ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে
বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেলকে বেছে নিচ্ছেন। চালকদের পূর্ব–অভিজ্ঞতা না থাকা,
বেপরোয়া গতিতে চালানো এবং ঈদের পরে প্রশাসনের নজরদারি শিথিল হওয়ার কারণে
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
ঈদের ছুটিতে সড়কে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ পরিবারের কাছে যাচ্ছিলেন। কেউ
মোটরসাইকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। বাস–ট্রাক উল্টে কারও মৃত্যু
হয়েছে। মোট ৩৫টি দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দেড়
শতাধিক লোক। সোমবার (০১ জুন) এক দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। এর আগের দিন রোববার
(৩১ মে) প্রাণ গেছে ১২ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন। ৩৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে ১৭টিই
ছিল মোটরসাইকেলের। যা মোট প্রাণহানির ৪১ শতাংশ।
চট্টগ্রাম: ফুটকছড়ি ও বাঁশখালীতে বাবা-ছেলেসহ চারজন মারা গেছেন। ফটিকছড়ি উপজেলায়
বিআরটিসির একটি বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা- ছেলে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন
মোহাম্মদ শাহজাহান এবং তার ছেলে আরিফ। এ দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাংলাদেশ সড়ক
পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম জানান, সোমবার সকাল প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে উপজেলার
বিবিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে
পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন, ফলে ওই সড়কে যান
চলাচল ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এছাড়া বাঁশখালী উপজেলায় মাছবোঝাই একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি
সংঘর্ষে দুজন মারা গেছেন। এরা হলেন নোমান ইলাহি ও বাহাদুর আলম।
বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাতটার দিকে যাত্রীবাহী একটি
অটোরিকশা চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে বাঁশখালীর
পিএবি সড়কের মনছুরিয়া বাজার এলাকায় মাছবোঝাই একটি পিকআপের সঙ্গে অটোরিকশাটির
মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে বাহাদুর আলমের মরদেহ উদ্ধার করে
পুলিশ। এছাড়া আহত হন আরও তিনজন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নোমান ইলাহির মৃত্যু হয়।
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের এক কিশোর
নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে
কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান শরীয়তপুর জেলার পালং
থানার কাশাভোগ (কাশাপুর) গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর থেকে কয়েকজন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে
কুয়াকাটা ভ্রমণে আসেন। তারা কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে লেম্বুরবনের দিকে
যাচ্ছিলেন। এসময় এক নারী রাস্তা পার হওয়ার সময় দুঘটনা ঘটে।
নাটোর : সিংড়া ও লালপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও তিন মোটরসাইকেল
আরোহীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ও রোববার রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়ার
বন্দর আমতলা ব্রিজ এলাকায় বগুড়া থেকে আসা একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক
থেকে আসা একটি পালসার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই
আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন সাইফুল ইসলাম (২৬) নামে আরেকজন। খবর পেয়ে
ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাইফুল নাটোর সদর উপজেলার
আলাইপুর এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে। নিহত অন্য দুইজন হলেন— নাটোর সদর উপজেলার
ইসলামবাড়ি গ্রামের মতালিব হোসেনের ছেলে মুক্তার হোসেন হীরা (২৬) এবং লালপুর
উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলামের ছেলে জীবন (১৮)।
এদিকে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কলম ইউনিয়নের পুন্ডরী গ্রামের একটি
গ্রামীণ সড়কে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আসমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারী
নিহত হন। তিনি ওই গ্রামের আজিম উদ্দিনের মেয়ে।
জয়পুরহাট: ক্ষেতলালে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল
দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। গতকাল উপজেলার নিশ্চিন্তা-চাঁনপাড়া
আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কালাই উপজেলার সরাইল
গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন সরকার (৩০) ও তার শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের
সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। আহত হয়েছেন ইমনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে
মোটরসাইকেলে করে রওনা হন ইমন সরকার, তার স্ত্রী ও শ্যালক ফেরদৌস। পথে খড়িকাটা
এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিঁটকে পড়ে যায়। এ সময়
বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন সরকার ও ফেরদৌস
ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন ইমনের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে খড় ও ধান
শুকানোর জন্য রাস্তার ওপর ছড়িয়ে রাখা হয়। সড়কে ছড়িয়ে থাকা খড়ের কারণে
মোটরসাইকেলটি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মোক্তাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ছুটির শেষ দিনে: ছুটির শেষ দিন গত রোববার দেশের একাধিক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায়
মৃত্যু ঘটেছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকায় বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত
ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন এক মা ও তার দুই মেয়ে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। দিনাজপুরের
নবাবগঞ্জে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক তরুণী নিহত হন।
কুষ্টিয়ার মিরপুরে যাত্রীবাহী বাস ও সেনা সদস্যবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন
নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হন। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাস খাদে পড়ে এক নারী নিহত ও
অন্তত ১০ জন আহত হন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দুটি বাসের প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে এক
নাইটগার্ড নিহত হন। একই জেলার ফরিদগঞ্জে পিকআপ ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এক কিশোর
প্রাণ হারায়।
এদিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত
৩০ জন আহত হন। যদিও এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বগুড়ার শেরপুরে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ঘটনাস্থলে নিহত হন সাইকেলচালক
আলহাজ উদ্দিন। বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের মির্জাপুর এলাকায় পদচারী–সেতুর পূর্ব পাশে
সার্ভিস লেনে গতকাল দুপুরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
সিলেটের ওসমানীনগরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে পেছন থেকে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই চালক ও
সহকারী নিহত হন। গত রোববার সকালে ওসমানীনগরের তাজপুর বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ঈদযাত্রার শুরুতেই ২৫ মে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ শ্রমিক
নিহত হন। ছুটির সময়ে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একই দিন বগুড়ার
শাজাহানপুরে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্র্যাকের এক কর্মী ও
তার চার বছরের মেয়ে নিহত হন। নওগাঁর পত্নীতলায় ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে
ইজিবাইকের চালকসহ দুজনের মৃত্যু হয়।
২৬ মে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে চালবোঝাই পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একই
পরিবারের তিনজন নিহত হন। একই দিনে বরিশালের গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে
থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারান। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বাসচাপায়
সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন।
২৭ মে রাজধানীর নদ্দা নতুন বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস সড়ক বিভাজক
ভেঙে আরেকটি বাসে ধাক্কা দিলে ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। একই রাতে ফরিদপুরের
ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত এবং দুই আরোহী আহত হন।
ঈদের দিনে ১৮ মৃত্যু: ঈদের দিন ২৮ মে বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি
ঘটে। ১৮ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি এদিন আহত হন আরও ৩০ জন।
ঈদের দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রামে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫
জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের
পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই শিশু নিহত হয়। নরসিংদীর শিবপুরে দুই
মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণের মৃত্যু হয়।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলে থাকা দুই কিশোর
নিহত হয়। বগুড়ার শেরপুরে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই তরুণের মৃত্যু এবং চারজন
আহত হন। টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক এইচএসসি
পরীক্ষার্থী
নিহত হন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়
এবং কয়েকজন আহত হন।
২৯ মে ঝিনাইদহ শহরে ট্রাফিক পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখে পালাতে গিয়ে বাসের চাকায়
পিষ্ট হয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। একই দিন বগুড়ার কাহালুতে দুটি
মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
৩০ মে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপের সংঘর্ষে বাবা ও তার
শিশুপুত্র নিহত হন। নরসিংদীর শিবপুরে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশার
চালকসহ দুজন নিহত হন। এ ছাড়া আগের দিন মাধবদীতে বাসচাপায় নিহত হন এক মোটরসাইকেল
আরোহী।
একই দিনে ঈশ্বরগঞ্জে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক তরুণ নিহত হন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল গাছে ধাক্কা দিলে দুই বন্ধু
প্রাণ হারান।
দীর্ঘমেয়াদি ‘সেফটি কালচারে’ জোর: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কেবল ঈদকেন্দ্রিক
তোড়জোড় না করে দীর্ঘমেয়াদি ‘সেফটি কালচার’ বা নিরাপত্তাকে অভ্যাসে পরিণত করার
ওপর জোর দিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)
অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। তিনি
মনে করেন, পুরো বছর সড়কে বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রেখে ঈদের সময়ে সেটি পরিবর্তন করা
সম্ভব নয়।
মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সেফটি এমন নয় যে সারা বছর আপনি সড়কে উচ্ছৃঙ্খলতা,
বিশৃঙ্খলা রাখবেন আর ঈদের সময় হুঁশিয়ারি দেবেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে—
বিষয়টা এ রকম না। এটা একটা চর্চার বিষয়।
সড়কের ওপর থেকে চাপ কমাতে এবং মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধ করতে দীর্ঘমেয়াদি
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রেলের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ
দেন মো. হাদিউজ্জামান।





