মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

এনসিপির দুই নেতা নিলো ২৫ কোটি আর অন্যান্য উপজেলা পেলো ১০-১৫ লাখ টাকা, এটা ত বৈষম্যহীন নীতির পরিপন্থী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত

আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রকল্পের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা

বরাদ্দের অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া।

মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে চরম

বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ

ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, দুই নেতা যদি সত্যিই এই টাকা না নিয়ে থাকেন,

তবে যেন প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেন।

রোববার (৩১ মে) একটি গণমাধ্যমে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে জেলা পরিষদের প্রশাসক তাঁর

আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোনো

যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য

১০ কোটি টাকা প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য

উপজেলাগুলোর কপালে জুটেছে মাত্র ১০ থেকে ২৬ লাখ টাকা।

নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির টাকার এমন অসমান বণ্টনকে উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’

নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন মোস্তাক মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার

অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে এই নতুন অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান

রাজনৈতিক মহলে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে পরিচিত।

অবশ্য বক্তব্যের শেষভাগে কিছুটা সুর নরম করে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্পষ্ট করেন যে,

নেতারা এই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন—এমন দাবি তিনি করছেন না। বরং

প্রকল্পের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুই এলাকায় মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে

নেওয়ার কারণে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো যে চরম অবহেলার শিকার হয়েছে,

তিনি মূলত সেই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন