বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সিম প্রতিস্থাপনের উপর আরোপিত কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনা

আসন্ন জাতীয় বাজেটে মোবাইল ফোনের সিম প্রতিস্থাপনের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা

হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া

গেছে। বর্তমানে একটি সিম হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে একই নম্বর পুনরায় সচল করতে

গ্রাহককে ২০০ টাকা কর প্রদান করতে হয়। সরকারের নতুন এই পরিকল্পনায় সাধারণ সিমের

পাশাপাশি ‘ইন্টারনেট অব থিংস’ বা আইওটি সিম প্রতিস্থাপনের করও মওকুফ করার

চিন্তাভাবনা চলছে।

সিম প্রতিস্থাপন কর বাতিলের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার

রাজস্ব ছাড় হতে পারে। তবে উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ

নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মোবাইল অপারেটরগুলো দীর্ঘ সময় ধরে এই কর

প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি হলো, একটি সিম প্রথমবার ক্রয়ের সময়

যেহেতু একবার কর দেওয়া হয়, তাই একই নম্বরের সিম পুনরায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কর আরোপ করা

মূলত দ্বৈত করের শামিল। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে টেলিকম খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা

আরও সুদৃঢ় হবে এবং দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক দাবির প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এপ্রিল মাসের সর্বশেষ তথ্যমতে,

দেশে নিবন্ধিত মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ১৮ কোটি ৭০ লাখ। সাধারণত মোবাইল ফোন

চুরি হলে বা সিম ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রাহক সিম প্রতিস্থাপন করে থাকেন। পরিসংখ্যানে

দেখা যায়, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৫ লাখ সিম প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে

নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রেও ২০০ টাকা কর নির্ধারিত রয়েছে এবং সব মিলিয়ে এ খাত থেকে

প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। অপারেটরভিত্তিক গ্রাহক

সংখ্যা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৮ কোটি ৫০ লাখ, রবির ৫ কোটি ৭৮

লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ৭৫ লাখ এবং সরকারি অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৬৮ লাখ।

এই কর প্রত্যাহার করা হলে দেশের এক বিশাল সংখ্যক মোবাইল ব্যবহারকারী সরাসরি আর্থিক

সুবিধা পাবেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন