সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু দিন ধরেই বলিউড সুপারস্টার আমির খানের তৃতীয় বিয়ে
নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের বিবাহের
সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন আমির খান। তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটই হতে
যাচ্ছেন তার জীবনসঙ্গিনী। আগামী ৫ জুলাই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন।
এর আগে একটি গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছিল যে, আগামী ৫ জুলাই আমির খান ও গৌরী
স্প্র্যাট ঘরোয়া পরিসরে আইনি প্রক্রিয়ায় বিবাহ সম্পন্ন করবেন। সে সময় এ প্রসঙ্গে
আমির নীরবতা পালন করলেও সম্প্রতি ভারতের একটি প্রভাবশালী বিনোদন সাময়িকীকে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে তিনি সংবাদের সত্যতা স্বীকার করেন। আমির স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাদের
বিয়ের খবরটি সত্য এবং আগামী ৫ জুলাই বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে নিজের ৬০তম জন্মদিনে গৌরীকে ভক্তদের সামনে নিয়ে আসেন আমির খান।
জীবনের এই পর্যায়ে এসে নতুন করে ভালোবাসার সন্ধান পাওয়ার কথা জানালেও সেই সময়ে
বিবাহের প্রসঙ্গটি তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান। আমির তখন জানিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতের
পরিকল্পনার চেয়ে তারা বর্তমান সম্পর্কটাকেই বেশি উপভোগ করতে চান।
বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আমির খান নিজের নিঃসঙ্গতা ও মানসিক পরিবর্তনের
কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাওয়ের সাথে বিচ্ছেদের পর তার
চিন্তাচেতনায় যে বিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে তিনি কথা বলেন। একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে
আমির জানান, গৌরীর সাথে পরিচয়ের পূর্বে তিনি নিজেকে বেশ বয়োবৃদ্ধ ভাবতেন এবং এই
বয়সে নতুন কোনো সঙ্গী পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে থেরাপি গ্রহণের
পর তিনি উপলব্ধি করেন যে, সবার আগে নিজেকে ভালোবাসতে হবে এবং নিজের প্রতি যত্নশীল
হতে হবে।
গৌরীর সাথে সম্পর্কের সূচনাটি আকস্মিক ছিল উল্লেখ করে আমির জানান, তাদের পরিচয় ছিল
একেবারেই অপ্রত্যাশিত। সেখান থেকেই প্রথমে বন্ধুত্ব এবং কালক্রমে তা ভালোবাসায় রূপ
নেয়। এক সময় তিনি মনে করতেন মা, সন্তান ও ভাইবোনদের নিয়ে তার যে পারিবারিক পরিমণ্ডল
রয়েছে, সেখানে হয়তো নতুন কোনো সঙ্গীর প্রয়োজন নেই। তবে গৌরীর আগমন তার সেই ধারণা
আমূল বদলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, আমির খানের প্রথম স্ত্রী ছিলেন রীনা দত্ত। সেই সংসারে তাদের জুনায়েদ ও
ইরা নামে দুটি সন্তান রয়েছে। রীনার সাথে বিচ্ছেদের পর ২০০৫ সালে তিনি নির্মাতা কিরণ
রাওকে বিবাহ করেন। ২০২১ সালে কিরণের সাথেও তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটে। তবে বৈবাহিক
সম্পর্কের অবসান হলেও পুত্র আজাদের খাতিরে তাদের মধ্যে এখনও অত্যন্ত চমৎকার ও
সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।





