দেশের ফল রফতানি খাতে এক নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর
(ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ফল
রফতানি করে বাংলাদেশ ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার ডলার আয় করেছে। আগের পুরো অর্থবছরে এই
খাতের আয় ছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফল রফতানি
থেকে আয় বেড়েছে ৮২ শতাংশেরও বেশি, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছর ধরে এই খাতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা
যাচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে আয় ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার, সেখান থেকে
কয়েক বছরের ব্যবধানে এই বিশাল উল্লম্ফন জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
রফতানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে বাদাম (তাজা বা শুকনো) এবং তাজা ফলের বিভিন্ন শ্রেণি
থেকে। এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রফতানি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের ফলের প্রধান বাজার হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব,
কাতার, ওমান ও কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি
যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে
দেশি ফলের বিশাল চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে আন্তর্জাতিক মূলধারার
বাজারে এখনও বাংলাদেশের ফলের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারেনি। মূলত বৈশ্বিক ক্রেতাদের
চাহিদা অনুযায়ী মান নিয়ন্ত্রণ, উন্নত প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভাব এর প্রধান
কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রফতানি পণ্যের তালিকায় গ্রীষ্মকালীন ফল আম এখনও শীর্ষে রয়েছে। এর পাশাপাশি পেয়ারা,
কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও কলার চাহিদাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে পার্বত্য
জেলাগুলোতে ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফি চাষের প্রসারের ফলে রফতানিযোগ্য ফলের একটি
বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও চুক্তিভিত্তিক চাষের
প্রসারের ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মান ও সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে রফতানি বৃদ্ধিতে লজিস্টিকস এবং অবকাঠামোগত কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনও বড় বাধা
হিসেবে রয়ে গেছে। উচ্চ বিমান ভাড়া, মৌসুমে কার্গো পরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং শীতাতপ
নিয়ন্ত্রিত পরিবহন ব্যবস্থার অভাব রফতানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া কোয়ারেন্টিন
সনদ প্রদান ও প্যাকেজিং সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক
হওয়ায় জেলা পর্যায়ের রফতানিকারকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সেবাগুলো বিভাগীয়
পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং পরিবহন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে ফল রফতানি আরও কয়েক গুণ বাড়ানো
সম্ভব। আম রফতানির বর্তমান মৌসুম শেষে আয়ের এই অংক আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা
হচ্ছে।





