২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হওয়ার আগেই অনেক দলের জন্য
বেজে উঠেছে বিদায়ের ঘণ্টা। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও
পর্যাপ্ত পয়েন্ট ও গোলের অভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে বেশ কয়েকটি দল।
স্বপ্নভঙ্গের এই তালিকায় সবশেষ যুক্ত হয়েছে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা।
গ্রুপ ‘এল’-এ টিকে থাকার মরণপণ লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়া ও ঘানার কাছে টানা দুই হারে
বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো পানামার। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ১-০ গোলের হার
তাদের নকআউটে ওঠার শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ করে দেয়। বাণিজ্যিক কারণে ম্যাচের মাঝে
অতিরিক্ত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে পানামা কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেন ক্ষোভ প্রকাশ
করলেও তা মাঠের ফলাফল বদলাতে পারেনি। একইভাবে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপের ডার্ক হর্স
হিসেবে পরিচিত তুরস্ক। আর্দা গুলারদের এই দল দুই ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ৬২টি শট
নিয়েও কোনো গোল করতে না পারার এক হতাশার রেকর্ড গড়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর ১০ জনের প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও গোলশূন্য থাকায় তাদের
যাত্রা এখানেই থেমে গেল।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ক্যারিবীয় দেশ হাইতির অভিযানও বেশি দূর এগোতে
পারেনি। স্কটল্যান্ডের কাছে ন্যূনতম ব্যবধানে পরাজয়ের পর শক্তিশালী ব্রাজিলের কাছে
৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ৮৩ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের
এই দলটিকে। অন্যদিকে, আফ্রিকার প্রতিনিধি তিউনিসিয়াও একই ভাগ্যের শিকার হয়েছে।
সুইডেনের কাছে বড় হারের পর প্রধান কোচ সাব্রি লামুশিকে সরিয়ে হার্ভে রেনার্ডকে
দায়িত্ব দেওয়া হলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বকাপের ১০০০তম ম্যাচে জাপানের কাছে
৪-০ গোলে হেরে তিউনিসিয়াও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জর্ডান অবশ্য লড়াই করে বিদায় নিয়েছে।
আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেললেও তারা
মাঠ ছাড়েনি অনায়াসেই। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আলি ওলওয়ান জর্ডানের বিশ্বকাপ
ইতিহাসের প্রথম গোলটি উপহার দেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-১
ব্যবধানে হেরে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। আপাতত পানামা, তুরস্ক, হাইতি, তিউনিসিয়া এবং
জর্ডান—এই পাঁচটি দলের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর পর এই
তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





