এশিয়ার পরাশক্তি কাতারকে হারিয়ে নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) খেলার জোর সম্ভাবনা
বাঁচিয়ে রেখেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে পূর্ণ ৩
পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানের কারণে সরাসরি পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি বসনিয়া। তবে
গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় হওয়ায় এখনও দলটির নকআউট পর্বে ওঠার আশা ভালোভাবেই
টিকে আছে, আর এর বিপরীতে টানা তিন হারে বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিশ্চিত হলো
কাতারের।
‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ ৩২ এবং চূড়ান্ত অবস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে বুধবার দিবাগত রাতে
একই সময়ে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। অন্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে
যায় স্বাগতিক কানাডা। গ্রুপ পর্ব শেষে কানাডা ও বসনিয়ার পয়েন্ট সমান ৪ হলেও গোল
ব্যবধানে এগিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে সরাসরি নকআউটে গেছে কানাডা। তবে ৪৮ দলের এই
বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের মধ্যে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা আটটি দল নকআউট পর্বে খেলার
সুযোগ পাবে। সেই হিসেবে ১টি জয় ও ১টি ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট পাওয়া বসনিয়ার পরের রাউন্ডে
যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরাল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা বসনিয়া প্রথম লিডের দেখা পায় ২৯তম
মিনিটে। ১৮ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার কেরিম আলাইবেগোভিচ বক্সের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে
নেওয়া এক শক্তিশালী ও দর্শনীয় শটে কাতারের জাল কাঁপান। এই গোলটির মাধ্যমে ফুটবল
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখিয়ে
নিলেন কেরিম। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ৩৪ মিনিটে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ব্যবধান
দ্বিগুণ করে কাতারের ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রেকের আত্মঘাতী গোলে।
২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় কাতার। ৪২তম মিনিটে
কাতারের অভিজ্ঞ তারকা হাসান আল হাইদোস এক চমৎকার গোলে ব্যবধান ২-১ এ কমিয়ে আনেন।
তবে বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে কাতার আর কোনো বিশেষ প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। ম্যাচের
৮০তম মিনিটে বসনিয়ার এরমিন মাহমিচ আরও একটি গোল করলে স্কোরলাইন ৩-১ হয়। শেষ পর্যন্ত
এই ব্যবধান ধরে রেখেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট ও স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের দেশটি।
এর আগে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ফুটবল ইতিহাসে মাত্র একবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ
পেয়েছিল—২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ইরানকে হারালেও গ্রুপ পর্ব থেকেই
বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার তাদের সামনে নকআউটে উঠে নতুন এক ইতিহাস গড়ার হাতছানি
রয়েছে। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ করে বসনিয়াকে এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি
গ্রুপগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে; অন্যান্য গ্রুপের সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে থাকলেই
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত হবে বসনিয়ার।





