দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়া বা কমার সীমা বা
সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক
এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড
এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০১৮তম কমিশন সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত এই
সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো
পূর্বানুমোদন ছাড়াই সার্কিট ব্রেকারসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য মাপকাঠি নির্ধারণ
ও কার্যকর করতে পারবে।
বিএসইসির নতুন নির্দেশনার ফলে ২০২১ সালের ১৭ জুন ইস্যু করা সার্কিট ব্রেকার
সংক্রান্ত আগের আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে ডিএসই এবং সিএসই
তাদের নিজস্ব প্রবিধানমালা ও প্রতিদিনের বাজার পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে
শেয়ারের দাম ওঠা-নামার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করবে।
বর্তমানে কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী, ২০০ টাকার নিচের শেয়ারের দাম একদিনে সর্বোচ্চ
১০ শতাংশ এবং উচ্চমূল্যের শেয়ারের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত
ওঠা-নামা করতে পারে। স্টক এক্সচেঞ্জ চাইলে বর্তমান এই নিয়ম বহাল রাখতে পারে অথবা
বাজারের স্বার্থে যেকোনো সময় তা পরিবর্তন করতে পারবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই
সিদ্ধান্তের ফলে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর পেশাদারিত্ব বাড়বে এবং বাজার পরিস্থিতি
অনুযায়ী তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে বাজার
পরিচালনার ক্ষমতা স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়াকে পুঁজিবাজারের
আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিবর্তন দেশের
বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।





