আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার নকআউট পর্বের ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ফুটবল
বিশ্বে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মিশরের একটি গোল বাতিল করার
সিদ্ধান্তটি নিয়ে খোদ ফিফার বিশেষজ্ঞরাই প্রশ্ন তুলছেন। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ
করেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনাকারী অভিজ্ঞ মেক্সিকান রেফারি
ফার্নান্দো গুয়েরেরো।
ভিএআর প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ
ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল
মিশরের সামনে। কিন্তু ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ শেষে
ফাউলের অজুহাতে মিশরের গোলটি বাতিল করেন। ফার্নান্দো গুয়েরেরোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী,
এই সিদ্ধান্তটি নিতে গিয়ে ফিফার নিজস্ব ভিএআর (VAR) প্রটোকল বা নিয়ম চরমভাবে লঙ্ঘন
করা হয়েছে।
তিনি প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন, ভিএআর-এর ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ নিয়ম
অনুযায়ী এই গোলটি বাতিলের কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার
রক্ষণভাগ বলটি উদ্ধার করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পেয়েছিল এবং তারা অন্তত
তিনবার বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছিল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ডিফেন্ডিং
দল যখন বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বাস্তবসম্মত সুযোগ পায়, তখন আগের কোনো সম্ভাব্য
ফাউলের জন্য ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
ম্যাচের ওপর প্রভাব ও মিশরের ক্ষোভ
বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত
মিশর ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে। এই পরাজয়ের পর মিশরের
খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এই ম্যাচটিকে
পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মিশরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে,
টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং তারকা খেলোয়াড়দের টিকিয়ে রাখতেই এমন বিতর্কিত
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি মাঠেই খেলোয়াড়দের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
কে এই ফার্নান্দো গুয়েরেরো
যিনি এই রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সেই ফার্নান্দো গুয়েরেরো বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে
অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একজন রেফারি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের
মধ্যকার ঐতিহাসিক ফাইনালে তিনি ‘সাপোর্ট ভিএআর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই
টুর্নামেন্টে তিনি ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি দলের
বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন, যার মধ্যে জাপান বনাম স্পেন এবং বেলজিয়াম বনাম মরক্কোর
মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো উল্লেখযোগ্য।
আর্জেন্টিনা ও মিশরের এই ম্যাচটি শেষ হলেও এর রেফারিং নিয়ে আলোচনা থামছে না। একজন
বিশ্বমানের রেফারিং বিশেষজ্ঞের এমন তথ্যনির্ভর সমালোচনা ফুটবল নিয়ন্ত্রক
সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম
দিয়েছে। মিশরের দাবি, মাঠের এই ভুল সিদ্ধান্তই তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।





