, ,

ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিরতি চলাকালীন পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিমান

হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে তেহরানের তেল

বিক্রির বিশেষ সুবিধাও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত

জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ

গ্রহণ করে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তাদের

অভিযানে ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অন্তত ৬০টি ছোট নৌযান ধ্বংস করা

হয়েছে। এছাড়াও ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট,

জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু

করা হয়। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নৌ

চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং তারা মনে করে যে, ইরানকে ‘উচ্চ মূল্য’

দিতে বাধ্য করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে মার্কিন এই আক্রমণকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরানের খাতাম

আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স। তারা পাল্টা প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট

জানিয়ে দিয়েছে যে, “হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া

হবে না।” দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে ইরানের প্রধান

তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ছাড়াও কেশম, সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় প্রচণ্ড

বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সিরিক এলাকায় একটি বাণিজ্যিক জেটিতে প্রক্ষেপণের আঘাতে

বেশ কয়েকজন আহত হওয়া ছাড়াও মাছ ধরার নৌকা ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য

যে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয় এই খার্গ দ্বীপ থেকে।

সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও ইরানকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র। গত ২২ জুন দেওয়া বিশেষ ছাড় বা সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করায় তেহরান এখন

আর আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোকেমিক্যাল বা জ্বালানি পণ্য বিক্রি করতে পারবে না।

ওয়াশিংটনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরণের বাণিজ্যিক

লেনদেন গুটিয়ে ফেলতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা

লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং এর পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী থাকার কথা জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালির এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কাতার ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজে

হামলা। কাতার অভিযোগ করেছে যে, তাদের একটি গ্যাসুবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো

হয়েছে, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব,

নয়তো কাজ শেষ করে দেব।” বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন,

মার্কিন হুমকি অব্যাহত থাকলে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। দুই

দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন