রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশীয় সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার উৎসাহিত করতে বিকল্প নগদ
সহায়তার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে সরকার। বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের
দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই সহায়তার পরিমাণ দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা
হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের
কাছে পাঠিয়েছে। এর ফলে যেসব পোশাক রপ্তানিকারক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার
করবেন, তারা বাড়তি এই আর্থিক সুবিধা লাভ করবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই সুবিধা গ্রহণের জন্য
রপ্তানিকারকদের অবশ্যই দেশীয় উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের যথাযথ প্রমাণপত্র
দাখিল করতে হবে। মূলত আমদানিকৃত সুতার সঙ্গে স্থানীয় সুতার দামের পার্থক্য কমিয়ে
দেশীয় মিলগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সহায়তার হার কয়েক
দফায় কমিয়ে দেড় শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে এর ফলে বিদেশি সুতা বিশেষ করে ভারতীয়
সুতার আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, বিগত
দুই অর্থবছরে সুতা আমদানির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমইএ-র পক্ষ থেকে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
করে দেশীয় সুতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে নগদ
সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছিল। সূত্রমতে, বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী
পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই অর্থ মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনা জারি করেছে। খাত
সংশ্লিষ্টদের মতে, ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদানের ফলে বছরে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩
হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে দেশীয় সুতার ব্যবহার বাড়লে কর ও শুল্ক বাবদ
সরকারের আয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি টেক্সটাইল মিল রয়েছে, যার মধ্যে স্পিনিং মিলের
সংখ্যা ৫২৭টি। এই খাতে মোট বিনিয়োগ প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের নিট
পোশাক খাতের ৮০ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতার চাহিদা মেটায় এই
স্থানীয় মিলগুলো। বিকেএমইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ
থাকার সময় আমদানিকৃত ও দেশীয় সুতার দামের পার্থক্য কেজিপ্রতি ৪০ সেন্টে পৌঁছেছিল,
যা এখন ৫ শতাংশ প্রণোদনার ফলে ১০-১৫ সেন্টে নেমে আসবে। এর ফলে আমদানিনির্ভরতা কমে
দেশীয় সুতার বিক্রি বাড়বে।
তবে ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, শুধু নগদ সহায়তা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়।
টেক্সটাইল মিলগুলোতে বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। সুতা উৎপাদনের মূল
উপাদান তুলা ও জ্বালানি হওয়ায়, সঠিক সময়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করতে
পারলে এই উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।





