, ,

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সহিংসতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ নিহত ৯

চলতি মাসের শেষভাগে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে

উঠেছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। সেখানে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর সমর্থকদের

সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার খবর

পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জম্মু ও

কাশ্মীরের এই অংশে ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী সহিংসতার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুঞ্চের বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন যে,

আন্দোলনকারীরা ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ কনভয় অবরুদ্ধ করে কর্তব্যরত

কর্মকর্তাদের ওপর আকস্মিক চড়াও হয়। কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ও দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীরা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে

বাধ্য হন।” এই সংঘর্ষে তারারখাল অঞ্চলে ছয়জন বিক্ষোভকারী ও একজন পুলিশ প্রাণ হারান।

অন্যদিকে রাওলাকোটে পৃথক সংঘাতের ঘটনায় একজন আন্দোলনকারী ও এক নিরাপত্তা কর্মীর

মৃত্যু হয়েছে। গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত প্রায়

৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাশ্মীরের এই সংকটের মূল কারণ মূলত স্থানীয় বিধানসভার নির্বাচনী আসন ব্যবস্থা।

পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রাখার

সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নেমেছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ। তাদের

দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে স্থানীয় জনমানুষের প্রতিনিধিত্বের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই

বৈষম্যের প্রতিবাদে গত জুন মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ হওয়া ‘যৌথ অ্যাকশন

কমিটি’ বা জেইএএসি আজ বুধবার রাওলাকোটে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। তবে

প্রশাসন এই কর্মসূচি ঠেকাতে অনমনীয়। বিভাগীয় কমিশনার ওয়াহিদ খান কঠোর হুঁশিয়ারি

দিয়ে বলেছেন যে, “আন্দোলনকারীদের কোনোভাবেই শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে

না এবং যেকোনো মূল্যে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”

বর্তমানে ওই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন