সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

ছয় বিভাগে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস ও নদীবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের ছয় বিভাগে কালবৈশাখী ও বজ্রসহ ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল এবং কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে একযোগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসব এলাকার নদী বন্দরসমূহকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা র‍খা হয়েছে। এসব অঞ্চলের নদী বন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ তরিফুল নেওয়াজ কবির শনিবার রাতে জানান, যদি কালবৈশাখী ঝড় তীব্র হয়, তবে অতিরিক্ত ক্ষতি হতে পারে। ভারী বর্ষণ বা শিলাবৃষ্টি থাকলে যেমন ঝুঁকি বাড়বে, তেমনি ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হবে। তিনি বলেন, “যদি ঝড়ের তীব্রতা বেশি হয়, তাহলে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ও মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাহত হতে পারে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার রাতের বুলেটিনে আরও জানানো হয়, এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, ঝকঝকে বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অংশে আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, আর দেশের অন্যত্র তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। রাতে এসব বিভাগের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী ও রাঙামাটিতে ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন ছিল রাঙামাটিতে ২১.৫ ডিগ্রি। ওই সময়ে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, তবে দেশের অন্যত্র বেশ কোনও উল্লেখযোগ্য জলঝরার ঘটনা হয়নি।

পোস্টটি শেয়ার করুন