সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

রুবেল হোসেন বিদায়ী ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানালেন

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ ও অনেক স্মরণীয় বিজয়ের নায়ক রুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অবসর ঘোষণা করলে, আজ সোমবার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার জন্য বিশেষ সম্মাননা আয়োজন করে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের শুরুর আগে সরাসরি এক আবেগপ্রবণ পরিবেশে রুবেলের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল, সেখানে বোর্ডের অন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

রুবেল সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০২১ সালে এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর তিনি বিশ্রাম নেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত থাকলেও, কখনোই আবার আন্তর্জাতিক দলে ফিরেননি। দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ার শেষে তিনি জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের পেসারদের পথ সুগম করার জন্য ও নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানতে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্মাননা গ্রহণের সময় রুবেল এক বিষণ্ণ ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তাঁর পরিবারের, মাঠের গ্রাউন্ডস্ম্যান ও কোচদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিসিবির দ্রুত উদ্যোগের প্রশংসা করে রুবেল বলেন, অবসর ঘোষণার পরপরই তামিম ইকবাল ফোন করে তাকে বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের জন্য এক স্বীকৃতি দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই আন্তরিকতা ও সম্মানজনক বিদায়ের জন্য তিনি বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ। রুবেল তার বক্তব্যে তার পরিবারের পাশাপাশি মাঠের সব কর্মী ও কোচদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বিদায় ভাষণে তার মুখে বিশেষভাবে উঠে আসে দেশের সফল কোচ সারোয়ার ইমরানের নাম। তিনি স্মরণ করেন, ‘পেসার হান্ট’ কর্মসূচি থেকে তাকে খুঁজে বের করে দলের জন্য প্রয়োজনীয় করে তোলার পেছনে সারোয়ার ইমরানের অবদান অস্বিত্বের মধ্যে নেই। তিনি আরও বলেন, ‘সারোয়ার ইমরান স্যার যদি ওই সময় আমার ওপর আস্থা না রাখতেন, তবে আমি এতটাই সফল হতাম না।’ তিনি প্রিয় কোচের দীর্ঘজীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে রুবেল হোসেন বাংলাদেশের জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার মারাত্মক স্পেল ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার গতি ও রিভার্স সুইংয়ের জাদু দিয়ে বহু কঠিন প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করেছেন। বিদায়ের পর রুবেল ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের হয়ে খেলা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, এবং মাঠের সেই উন্মাদনাকে তিনি আজীবন মনে রাখবেন। বিসিবির এই সংবর্ধনার মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের এক লড়াকু সৈনিকের কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

আশা করা যায়, অবসর নেওয়ার পর রুবেল তার অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কোচিং বা অন্যকোন নির্দেশক ভূমিকায় ক্রিকেটের সাথে থাকবেন। এর মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চান।

পোস্টটি শেয়ার করুন