পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চলমান আসরে রাওয়ালপিন্ডিজের জন্য একটি দুঃখজনক অঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই তারা টুর্নামেন্ট থেকে বাইরে ছিটকে গেছে। গতকাল শনিবার করাচিতে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের কাছে ৩২ রানে পরাজিত হওয়ার মাধ্যমে রাওয়ালপিন্ডিজের এবারের অভিযান শেষ হয়ে যায়। এই ম্যাচটি ছিল টেবিলের তলানির দুই দল—সাত এবং আট নম্বর পজিশনের ম্যাচ, যেখানে অবশেষে জয় হাসিল করেছে লাহোর। এই জয়ে তারা তাদের টানা তিন ম্যাচের জয়ধারা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সাত ম্যাচ হেরে পরাজিত হয়ে একপ্রকার আনুষ্ঠানিকভাবে আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন রাওয়ালপিন্ডিজ।
ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামা লাহোর কালান্দার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে রেকর্ড করে ২১০ রান, যা ছিল এক বিশাল সংগ্রহ। এই দলের বিশাল স্কোরের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন ওপেনার ফখর জামান ও মোহাম্মদ ফারুক। তাঁদের বিধ্বংসী ১২১ রানের উদ্বোধনী জুটি রাওয়ালপিন্ডিজের বোলারদের জন্য ছিল এক চমক। ফখর জামান ৫৪ বলে ৮৪ রান করেন, অন্যদিকে মোহাম্মদ ফারুক ৪১ বলে করেন ৬৩ রান, যেখানে ছিল পাঁচটি চার এবং ছক্কার মার। রাওয়ালপিন্ডিজের জন্য বল হাতে মোহাম্মদ আমির ও রাজাউল্লাহ দুইটি করে উইকেট শিকার করেন, কিন্তু রানের গতি রোধ করতে তারা ব্যর্থ হন।
২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে লড়াই করার চেষ্টা করে রাওয়ালপিন্ডিজ। দলের হয়ে ইয়াসির খান ৫৮ এবং সাদ মাসুদ ৫৪ রান করে হাফ সেঞ্চুরি করেন, তবে বাকি ব্যাটাররা সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। লাহোরের বোলাররা ছিলেন ব্যাপক নিখুঁত, বিশেষ করে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সিকান্দার রাজা। আফ্রিদি ইকোনমি রেট ৬ ছাড়ায় প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। হারিস রউফ দিনটিতে ছিলেন সবচেয়ে সফল, তিনটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া উসামা মির ও শাহিন আফ্রিদি প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়ে লাহোরের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত, ৩২ রান দূরে থাকতেই রাওয়ালপিন্ডিজের ইনিংস শেষ হয়ে যায়।
এই হতাশাজনক মৌসুমে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের লেগস্পিনিং অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন। তবে বর্তমানে তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের জন্য দেশে অবস্থান করছেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৪ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন, তবে এই আসরে রিশাদের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই প্রত্যাশার বাইরে। তার চার ম্যাচে অংশ নিয়ে কেবল দুটি উইকেট নিয়েছেন তিনি, এবং ব্যাটিংও খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়—তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল মাত্র ৩ রান। এই ফর্ম না থাকায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের ওপরও। লিগের বাকি তিন ম্যাচ থাকলেও, এখন রাওয়ালপিন্ডিজের জন্য ম্যাচগুলো কেবল রীতিমতো নিয়ম রক্ষা করার লড়াই। এই পরাজয় দলটির কৌশলগত পরিকল্পনা, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে।





