শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬, ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে মন্দাভাব: এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমল ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহটি পার হয়েছে টানা

দরপতনের মধ্য দিয়ে। সপ্তাহজুড়ে অধিকাংশ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের

দাম হ্রাস পাওয়ায় প্রধান মূল্যসূচকে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। এর প্রভাবে মাত্র পাঁচ

কার্যদিবসেই ডিএসইর বাজার মূলধন ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকারও বেশি সংকুচিত হয়েছে বলে এক

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের পাঁচটি কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই সূচক

ছিল নিম্নমুখী। এক সপ্তাহ আগে ডিএসইর বাজার মূলধন যেখানে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি

টাকা ছিল, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি

টাকায়। তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ১৪১টির

শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২২২টি প্রতিষ্ঠান এবং

অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর।

সূচকের বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে

৫২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও সূচকটি সামান্য

কমেছিল। একই সঙ্গে বাছাই করা ভালো মানের কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ১৫

দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। তবে এই নেতিবাচক ধারার মধ্যেও ব্যতিক্রম

ছিল ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক; ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহে ৫

দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

মূল্যসূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৮৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের

সপ্তাহের ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার তুলনায় ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কম। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়

লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

টাকার অংকে লেনদেনের শীর্ষে আধিপত্য বিস্তার করেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩১ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা মোট

লেনদেনের ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। লেনদেনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল যথাক্রমে এনসিসি

ব্যাংক এবং লাভেলো আইসক্রিম। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষ দশ তালিকায় আরও

ছিল মুন্নু সিরামিক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিটি ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড,

বেক্সিমকো ফার্মা, জিকিউ বলপেন এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।

পোস্টটি শেয়ার করুন