শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬, ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে তীব্র তাপ প্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন

বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত

পৌঁছেছে।

আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ ও

দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে তাপজনিত জটিলতায় অন্তত ১০ জনের

মৃত্যু হয়েছে। ভারতেও হিটস্ট্রোক ও অতিরিক্ত গরমে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চরম গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ, শিশু, বয়স্ক ও

অসুস্থ ব্যক্তিরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল বর্ষা-পূর্ব বৃষ্টি এবং এল নিনো

পরিস্থিতির কারণে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উচ্চচাপ বলয়ের কারণে

গরম বাতাস ভূমির কাছাকাছি আটকে থাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মেঘ তৈরি

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা ও গুজরাটে

তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫

ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের আকোলা শহরে ৪৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি

সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

পাকিস্তানের করাচিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ২০১৮

সালের পর সর্বোচ্চ। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নাগরিকদের দিনের বেলায় বাইরে না বের হওয়া

এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে তাপপ্রবাহের মাত্রা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য

অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেশে ২৪ দিন তাপপ্রবাহ ছিল, যা গত ৭৫ বছরের মধ্যে

সর্বোচ্চ। রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা ও ফরিদপুরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের

কাছাকাছি পৌঁছেছে।

জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ এখন আর সাময়িক আবহাওয়াগত ঘটনা নয়;

এটি ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে খোলা

আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। অতিরিক্ত গরমে কাজের সময়

কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘনঘন ও তীব্র হতে পারে। তাই আগাম

সতর্কতা, নগর পরিকল্পনা, শ্রমিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও তাপসহনশীল অবকাঠামো গড়ে

তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

পোস্টটি শেয়ার করুন