পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক
প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ছুটির আগে টানা পাঁচ দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার (১
জুন) লেনদেনের শুরুতেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় চাঙ্গাভাব
ফিরেছে বাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ
(সিএসই)—উভয় বাজারেই প্রধান মূল্যসূচকগুলো বেড়েছে, যার মাধ্যমে টানা ছয় কার্যদিবস
বাজার ‘সবুজ’ বা ইতিবাচক অবস্থানে থাকল। দীর্ঘদিন ধরে মন্দার কবলে থাকা সাধারণ
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই ধারা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসা এবং বিক্রির চাপ কমে
যাওয়াই এই উত্থানের প্রধান কারণ। অনেক বিনিয়োগকারীই মনে করছেন, সরকার ও
নীতিনির্ধারকদের ইতিবাচক সদিচ্ছা আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত হলে বাজারের এই অগ্রযাত্রা
আরও বেগবান হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে এদিন ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে,
বিপরীতে কমেছে ১৫২টির এবং ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে
লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের চাহিদা
ছিল বেশি। এর ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৭২ পয়েন্টে
দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক এবং শক্তিশালী ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক
যথাক্রমে ৪ ও ১৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৬ ও ২ হাজার ৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচক বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের গতিও ছিল নজরকাড়া। ডিএসইতে সোমবার মোট ৯১২ কোটি ৩৮
লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা ছুটির আগের শেষ কার্যদিবসের তুলনায় ১৩৩ কোটি ৬৭
লাখ টাকা বেশি। লেনদেনের শীর্ষে আধিপত্য বিস্তার করেছে এনসিসি ব্যাংক, যাদের ৪৪
কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, বিবিএস কেবলস ও সিটি
ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে,
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬১ পয়েন্ট বেড়েছে এবং
লেনদেনের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।





