বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর নাটকীয় এক লড়াইয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে ২-১
গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও
অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলের সুবাদে এক অবিস্মরণীয় জয় পায় থ্রি লায়ন্সরা। এই
জয়ের ফলে দীর্ঘ ৬০ বছর পর (১৯৬৬ সালের পর) বিশ্বকাপে প্রথম গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার
পর ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়ল ইংলিশরা। আগামী ৬ জুলাই মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে তারা।
ম্যাচের শুরুতেই চমক দেখায় ডিআর কঙ্গো। মাত্র ৭ম মিনিটে অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার
সহযোগিতায় ব্রায়ান সিপেঙ্গা দুর্দান্ত এক গোল করে আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে নেন।
ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া সিপেঙ্গার ডান পায়ের সেই শটে কঙ্গো ১-০ লিড নিয়ে
বিরতিতে যায়। প্রথমার্ধে ইংলিশরা বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও কঙ্গোর জমাট
রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। তবে গোলের দেখা
পেতে তাদের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে
দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান হ্যারি কেইন। সমতায় ফেরার পর
ইংলিশদের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ৪ মিনিট
আগে আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন কেইন। বক্সের বাইরে গর্ডনের কাছ থেকে বল
পেয়ে এক জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই বায়ার্ন মিউনিখ তারকা।
ম্যাচের শেষ দিকে কঙ্গো সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ইংলিশ রক্ষণভাগ কোনো ভুল
করেনি। ২-১ ব্যবধানের এই জয়ে হ্যারি কেইন জাতীয় দলের জন্য আরও একবার নিজেকে
অপরিহার্য হিসেবে প্রমাণ করলেন। অন্যদিকে বীরোচিত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ
থেকে বিদায় নিতে হলো কঙ্গোকে। হ্যারি কেইনের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ইংলিশ
সমর্থকদের মাঝে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে এবং মেক্সিকোর বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের জন্য
দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তুলেছে।





