আগামী বছর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা
থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই উদ্বৃত্ত এখন হুমকির মুখে। আন্তর্জাতিক
জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গতকাল প্রকাশিত তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন সতর্কবার্তা
দিয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, যদিও গত জুন মাসে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ
ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এটি যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এখনও দৈনিক ৯৪ লাখ
ব্যারেল কম।
আইইএ-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দৈনিক সরবরাহ প্রায়
৩৭ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেতে পারে। তবে আগামী বছর সরবরাহ দৈনিক ৭৫ লাখ ব্যারেল
বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই প্রবৃদ্ধি এবং তেলের
বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের
স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকার ওপর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে
সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের সরবরাহ উদ্বৃত্ত নিয়ে যে ইতিবাচক চিত্র আশা করা
হয়েছিল, তাতে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যদি জ্বালানি ক্ষেত্রগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল উত্তোলন চালিয়ে
যেতে পারে এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকে, তবে আগামী বছর চাহিদার তুলনায় দৈনিক
৪৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল বাজারে থাকতে পারে। চলতি বছর বৈশ্বিক
জ্বালানি চাহিদা দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল কমলেও ২০২৭ সাল নাগাদ তা ২০ লাখ ব্যারেল
বাড়তে পারে বলে আইইএ প্রাক্কলন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতি ও
জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।





